মহাকাশে উড়ল ‘বন্দে মাতরম’! ৩৫০ কেজি ওজন বহনে সক্ষম বিক্রম-১ রকেটের ঐতিহাসিক যাত্রা

ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে আজ এক অবিস্মরণীয় দিন। প্রযুক্তির উৎকর্ষতা আর অদম্য জেদকে সম্বল করে হায়দ্রাবাদ-ভিত্তিক মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’ আজ এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে সাফল্যের সাথে উৎক্ষেপণ করা হলো ভারতের প্রথম বেসরকারি কক্ষপথীয় রকেট— ‘বিক্রম-১’। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতীয় প্রকৌশলীদের হাতে গড়া ‘মিশন আগমন’-এর এই রকেটটি আজ যখন মহাকাশের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিল, তখন গোটা দেশের চোখ ছিল শ্রীহরিকোটার দিকে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঐতিহাসিক সাফল্যের খবর পৌঁছাতেই দেশবাসীকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তিনি বলেন, “ভারতের মহাকাশ যাত্রার জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক শুরু। এটি ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার প্রতীক।” প্রধানমন্ত্রী এই সাফল্যকে ভারতের তরুণ প্রজন্মের মেধা, সংকল্প এবং উদ্যোগের জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এই মিশন দেখার এবং #IndiaWithVikram1 হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে স্কাইরুট টিমকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রাক্তন ইসরো (ISRO) প্রধান এস. সোমনাথও এই মিশনকে ভারতের ব্যক্তিগত মহাকাশ শিল্পের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এটি কেবল একটি রকেটের প্রথম কক্ষীয় ফ্লাইট নয়, এটি ভারতের বেসরকারি রকেট নির্মাণ ক্ষমতার আগমনের প্রতীক।”

বিক্রম-১ রকেটটি প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত আধুনিক। এটি সম্পূর্ণভাবে হালকা এবং মজবুত কার্বন-কম্পোজিট কাঠামো দিয়ে তৈরি প্রথম কক্ষপথীয় রকেট। ৩৫০ কেজি ওজন বহনে সক্ষম এই রকেটে ব্যবহার করা হয়েছে কোম্পানির নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইঞ্জিন, যার মধ্যে ৩ডি প্রিন্টেড ইঞ্জিনও অন্তর্ভুক্ত। এই মিশনে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পেলোডের পাশাপাশি পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর হাতে লেখা ‘বন্দে মাতরম’ বার্তা, ইসরোর বর্তমান ও প্রাক্তন প্রধানদের বার্তা এবং ভারতের মহাকাশচারীদের শুভেচ্ছাবার্তা।

স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পবন কুমার চাঁদনা জানিয়েছেন, এই প্রথমবার বিক্রম-১ বাস্তব মহাকাশীয় পরিবেশে তার ক্ষমতা প্রদর্শন করল। তিনি বলেন, “এটি আমাদের প্রথম টেস্ট ফ্লাইট, যা থেকে পাওয়া তথ্য আগামী দিনে আমাদের রকেট উৎক্ষেপণের গতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।” ভারতের মহাকাশ বিজ্ঞানের মানচিত্রে আজ থেকে নতুন এক যুগের সূচনা হলো, যা আগামী দিনে বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।