সোনম ওয়াংচুকের জায়গায় আমরণ অনশনে অভিজিৎ দিপকে!, বড় আন্দোলনের ডাক

সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পর আন্দোলন স্তিমিত হওয়ার বদলে বরং আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার সকালে সোনমকে সরানোর প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন শুরু করেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তার এই পদক্ষেপে আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে।
সংসদ অভিযানের সিদ্ধান্তে অনড়: সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি অভিজিৎ দিপকে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আগামী ২০ তারিখ সংসদ অভিযান হবেই। সোনমজিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও আন্দোলনের ধার কমবে না। আজ থেকে আমি নিজেই অনশন শুরু করলাম।” তিনি দেশবাসীকে যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আন্দোলন আরও জোরদার করার ডাক দিয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্ত্রীর কড়া বার্তা: সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে তার স্ত্রী গীতাঞ্জলী জে আংমো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তার অনুমতি ছাড়া সোনমকে কোনো ধরনের তরল খাদ্য বা অন্য কোনো পুষ্টি দেওয়া যাবে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আমার অনুমতি ছাড়া তাকে মুখ দিয়ে বা নলের মাধ্যমে কোনো কিছুই খাওয়ানো যাবে না।” শুক্রবার পর্যন্ত সোনম শারীরিকভাবে বেশ স্থিতিশীল ছিলেন দাবি করে, পুলিশি হস্তক্ষেপকে সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারার পরিপন্থী বলে অভিযোগ তুলেছেন গীতাঞ্জলী।
পুলিশ বনাম আন্দোলনকারী: অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের দাবি, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই সোনমকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনো বলপ্রয়োগ করা হয়নি এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যন্তর মন্তর খালি করে দেওয়ার জন্য আন্দোলনকারীদের প্রতি অনুরোধও জানিয়েছে পুলিশ।
অনড় সোনম: হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঠিক আগের রাতেও সোনম ওয়াংচুক সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট করেছিলেন যে, তার ওজন ২০ শতাংশ কমে গেলেও তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন। ২০ তারিখের পূর্বনির্ধারিত সংসদ অভিযানে সকলের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েই তিনি অনড় অবস্থানে ছিলেন।
সোনম এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তবে যন্তর মন্তরের রাজপথ উত্তপ্ত। সরকার ও আন্দোলনকারীদের এই টানাপোড়েন এখন কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।