ট্রাম্পের গোপন স্ক্রিপ্ট ফাঁস করে জুয়া! বাজি ধরে কর্মী হয়ে গেলেন কোটিপতি

হোয়াইট হাউসের অন্দরে এক নজিরবিহীন নৈতিক স্খলনের অভিযোগ সামনে এল। অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেলিপম্পটার অপারেটর গ্যাব্রিয়েল পেরেজ প্রেসিডেন্টের ভাষণের গোপন তথ্যের সুযোগ নিয়ে অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মে বাজি ধরে প্রায় ৯০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ উপার্জন করেছেন। ২০১৬ সাল থেকে কর্মরত এই কর্মীর কাণ্ডে অস্বস্তিতে খোদ হোয়াইট হাউস।

কীভাবে চলত এই কারচুপি? টেলিপম্পটার অপারেটর হিসেবে প্রেসিডেন্ট জনসমক্ষে ঠিক কী কী শব্দ উচ্চারণ করবেন, তা পেরেজের কাছে আগে থেকেই স্পষ্ট ছিল। এই গোপন তথ্যের সুযোগ নিয়ে তিনি ‘কালশি’ (Kalshi) নামক একটি অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেটে অ্যাকাউন্ট খোলেন। সেখানে ট্রাম্পের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ এবং ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এর মতো হাই-প্রোফাইল বক্তৃতায় নির্দিষ্ট কিছু শব্দ ব্যবহার করা হবে কি না, তা নিয়ে বাজি ধরতেন পেরেজ। যেহেতু তিনি আগে থেকেই স্ক্রিপ্ট জানতেন, তাই তার বাজি জেতা ছিল প্রায় নিশ্চিত। তদন্তে উঠে এসেছে, ট্রাম্প যদি শেষ মুহূর্তে ভাষণে কোনো পরিবর্তন আনতেন, তবে চালাকি করে মাঝপথেই নিজের বাজি বাতিল করে দিতেন পেরেজ।

হাতেনাতে ধরা পড়লেন যেভাবে: পেরেজের এই সন্দেহজনক লেনদেন ধরা পড়ে কালশি প্ল্যাটফর্মের অভ্যন্তরীণ নজরদারি টিমের কাছে। তারা লক্ষ্য করে, অ্যাকাউন্টটি একজন সরকারি কর্মীর। এরপরই কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করে দিয়ে বিষয়টি আমেরিকার ‘কমোডিটি ফিউচার ট্রেডিং কমিশন’ (CFTC)-কে জানায়। এরপরই নড়েচড়ে বসে ট্রাম্প প্রশাসন।

হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বিষয়টিকে ‘চরম লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। হোয়াইট হাউসের কঠোর নৈতিক নিয়মাবলী লঙ্ঘনের অপরাধে গ্যাব্রিয়েল পেরেজকে অবিলম্বে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

আইনি জটিলতা: পেরেজের বিরুদ্ধে সিএফটিসি-র তদন্ত চলছে। তবে ম্যানহাটনের ফেডারেল প্রসিকিউটররা আপাতত এই ঘটনায় কোনো ফৌজদারি মামলা রুজু করতে অস্বীকার করেছেন। তবুও একজন সরকারি কর্মীর পদে থেকে এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড মার্কিন প্রশাসনের নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।