‘বেইমানি ক্ষমা করব না!’ কালীঘাটে কড়া বার্তা অভিষেকের, হুঁশিয়ারি ঘিরে রাজনৈতিক তোলপাড়

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন যে চরমে, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল কালীঘাটের একটি বৈঠকে। শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মীদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় মূলত আগামী দিনের রাজনৈতিক রণকৌশল এবং দলীয় শৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে এই বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয় ছিল দলত্যাগী কর্মীদের পুনরায় দলে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি।

তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, “কারও অপরাধ ক্ষমা করা যেতে পারে, কিন্তু বেইমানি ক্ষমা করা যায় না।” অতীতে যখন দলত্যাগী নেতাদের ফেরানোর কথা উঠেছিল, তখনও তিনি আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন অভিষেক। তবে দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদারতা ও মানবিকতার কারণেই তাঁরা পুনরায় দলে সুযোগ পেয়েছেন। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার, তাই তিনি তাঁদের ফিরিয়ে নিয়েছেন। তবে আগামী দুই বছরে পরিস্থিতি বদলাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যখন লড়াই হবে, তখন আর কাউকে ফেরানো হবে না। যদি ফেরানো হয়, তবে আমি পদ থেকে ইস্তফা দেব।”

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে হাওড়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং অভিষেকের এই বার্তা নিয়ে নব্য তৃণমূল ও পুরনো কর্মীদের মধ্যে নতুন করে বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে। অভিষেকের এই কঠোর অবস্থানকে অনেকেই ‘দলবদলু’দের বিরুদ্ধে সরাসরি হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছেন।

যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ এই বক্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি নয়। নব্য তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, “ওর মাফিয়া সাম্রাজ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। আমরা এই লুটপাটের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্ত দাবি করেছি। উনি যা জানেন, তা প্রকাশ্যে বলুন। উনি যদি অভয়ারণ্য ছেড়ে কালীঘাট মোড়ে আসেন, তবেই বুঝতে পারবেন মানুষ সবটা জানেন।”

অভিষেকের এই মন্তব্য দলের ভেতরকার অস্থিরতাকেই ইঙ্গিত করছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এমন অবস্থান আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণ কীভাবে বদলে দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একদিকে বেইমানি ইস্যুতে আপসহীন অভিষেক, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদার নীতির ফলে ফেরা নেতাদের অবস্থান—সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরে যে বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তৃণমূলের অন্দরমহলের এই সংঘাত যে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে দলকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে, তা স্পষ্ট।