মমতা বনাম ঋতব্রত: তৃণমূলের প্রতীকের মালিক কে? নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট ইঙ্গিতে জল্পনা তুঙ্গে!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে। দলের অন্দরে একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী— দুই পক্ষই এখন ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে নিজেদের দাবি জোরালো করছে। এই আবহে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটি শেষ পর্যন্ত কার দখলে থাকবে? শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত ‘অল ইন্ডিয়া মিডিয়া কনফারেন্স’-এ বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

কমিশনের অবস্থান কী? দীর্ঘদিন ধরে দুই শিবিরই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে প্রতীক পাওয়ার দাবিতে। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে যখন প্রশ্ন তোলা হয় যে, মমতা নাকি ঋতব্রত— শেষ পর্যন্ত কমিশন কাদের মান্যতা দেবে? এর উত্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কোনো নির্দিষ্ট শিবিরের নাম নেওয়ার বদলে আইনি পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act, 1950) মেনেই সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

প্রতীক কি ‘ফ্রিজ’ হতে পারে? নির্বাচন কমিশনার কোনো শিবিরের পক্ষ না নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করছেন, যেহেতু উভয় পক্ষই জোরালো দাবি জানাচ্ছে, তাই শেষ পর্যন্ত যদি বিবাদ মেটানো সম্ভব না হয়, তবে নির্বাচন কমিশন প্রতীকটি ‘ফ্রিজ’ বা সাময়িকভাবে জব্দ করে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনো শিবিরই ওই প্রতীকের ব্যবহার করার অনুমতি পাবে না। এটি তৃণমূলের অন্দরে দুই শিবিরের কাছেই বড় বড় ধাক্কা হতে পারে।

সময়ই দেবে উত্তর তৃণমূল ভবনের দখল থেকে শুরু করে দলের প্রতীক, একে একে সবকিছু নিয়েই দুই শিবিরের মধ্যে চলছে টানাপোড়েন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের এই নিরপেক্ষ উত্তর প্রমাণ করে দিয়েছে যে, কমিশন কোনো চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নেবে না। গোটা বিষয়টি এখন আইন ও তথ্যের ওপর নির্ভরশীল।

অন্তিম পরিণতি যাই হোক না কেন, নির্বাচন কমিশন যে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগোচ্ছে, তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। এখন সব জল্পনার শেষ দেখার জন্য অপেক্ষা শুধু সময়ের।