কার হাতে জোড়াফুল? ‘আসল’ তৃণমূল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কীভাবে? মুখ খুলল নির্বাচন কমিশন

একুশে জুলাইয়ের আগে জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের মালিকানা নিয়ে দুই শিবিরের লড়াই এখন তুঙ্গে। কালীঘাট শিবির নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নব তৃণমূল—কার হাতে থাকবে দলের প্রতীক ও সম্পত্তি? এই রহস্যের সমাধানে এবার মুখ খুলল ভারতের নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের স্পষ্ট বার্তা: দিল্লিতে শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ‘আসল তৃণমূল’ কারা, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে আইন মেনে সম্পন্ন হবে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী:

  • নথিপত্র যাচাই: দুই পক্ষ থেকেই তাদের যাবতীয় নথি ও যুক্তি ইতিমধ্যে কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। সব পক্ষের পেশ করা কাগজপত্রের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা হবে।

  • সরাসরি শুনানি: উভয় পক্ষকে শোনার জন্য শীঘ্রই শুনানির ব্যবস্থা করা হবে।

  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া এবং তথ্য যাচাইয়ের পরই কমিশন চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে। কোনো পক্ষকেই আগাম সুবিধা দেওয়া হবে না।

তৃণমূলের অন্দরে চাপানউতোর: দলের নাম, প্রতীক এবং বিপুল সম্পত্তির মালিকানা কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যেই চলছে জোর আইনি লড়াই। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থী আদি তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নতুন শিবির—উভয় পক্ষই নিজেদের দাবির সমর্থনে দিল্লিতে গিয়ে বারবার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে।

ঋতব্রতদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিশন দুই পক্ষের কাছেই পাল্টা যুক্তি চেয়েছিল, যার উত্তরে কালীঘাট শিবির নিজেদের অবস্থান ও নথি জমা দিয়েছে। তবে এই জটিলতায় আপাতত চূড়ান্ত উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ? নির্বাচন কমিশনের এই বার্তাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনে রাজনৈতিক ময়দানে ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আইনি পথে কমিশন যে স্বচ্ছতার বার্তা দিয়েছে, তা রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এক ধরণের স্পষ্ট নির্দেশিকা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

এখন কমিশন কোন পক্ষকে আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব।