৮ম বেতন কমিশন: ডিএ-এর পাশাপাশি বেতন ও ভাতার বড় সুখবর, কারা পাচ্ছেন এই সুবিধা?

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে ‘অষ্টম বেতন কমিশন’। গত বছরের অক্টোবরেই সরকার এই কমিশনের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছিল, আর বর্তমানে জোরকদমে চলছে সুপারিশ তৈরির কাজ। সরকারি ও বেসরকারি কর্মী সংগঠনগুলোর তরফ থেকে বেতন পরিকাঠামো সংস্কারের জন্য একগুচ্ছ দাবি পেশ করা হয়েছে, যার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত হবে নতুন বেতন কাঠামো।
অষ্টম বেতন কমিশনে কী কী বদল আসতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কমিশনের সুপারিশে শুধুমাত্র মহার্ঘ ভাতা (DA) বা মূল বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং সামগ্রিক বেতন কাঠামোর আমূল পরিবর্তন হতে পারে। সম্ভাব্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রগুলি হলো:
বেতন ও পে-ম্যাট্রিক্স: নতুন বেতন কাঠামোর নিয়মে পে-ম্যাট্রিক্স ও স্যালারি স্ট্রাকচারে বড়সড় রদবদল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভাতা বৃদ্ধি: বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং মহার্ঘ ভাতার হার সংশোধন হতে পারে।
ইনক্রিমেন্ট ও প্রোমোশন: কর্মীদের ইনক্রিমেন্ট এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধা পাওয়ার আশা রয়েছে।
বৈষম্য দূরীকরণ: কর্মী সংগঠনগুলোর প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বর্তমান বেতন বৈষম্য দূর করা। সেই দিকেই নজর দিচ্ছে কমিশন।
কমিশন কীভাবে কাজ করে? একটি কমিশনের গঠনতন্ত্রে একজন চেয়ারপার্সন, একজন সদস্য এবং একজন মেম্বার সেক্রেটারি থাকেন। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ঘোষণার ১৮ মাসের মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিতে হয়। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার সেই সুপারিশে সিলমোহর দিলেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হয়। তবে, এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দেশের বর্তমান আর্থিক অবস্থা এবং রাজকোষের ওপর এর প্রভাবকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।
কাদের পকেট ভারী হবে? অষ্টম বেতন কমিশনের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য তালিকায় রয়েছেন:
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও নন-ইন্ডাস্ট্রিয়াল)।
অল ইন্ডিয়া সার্ভিসের (IAS/IPS) কর্মকর্তা এবং সিভিল সার্ভেন্টরা।
ডিফেন্স সার্ভিস বা প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মীরা।
ইন্ডিয়ান অডিট ও অ্যাকাউন্ট ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা।
RBI-এর মতো দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মীরা।
সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের কর্মী এবং জুডিশিয়াল অফিসাররা।
অষ্টম বেতন কমিশন বাস্তবায়িত হলে তা শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীদের জীবনযাত্রার মানেই উন্নতি আনবে না, বরং পরোক্ষভাবে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামোর ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন কোটি কোটি সরকারি কর্মচারী।