সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে ১০০ পাতার চার্জশিট ইডি-র! ৩৮ কোটির জমি দুর্নীতির পর্দাফাঁস

কসবা ও সংলগ্ন এলাকায় জমি দখলের রাজত্ব আর বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এবার এই জমি দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-র বিরুদ্ধে কলকাতার বিশেষ ইডি আদালতে ১০০ পাতার এক বিশাল চার্জশিট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গত ১৮ মে গ্রেফতার হওয়ার ঠিক দু’মাসের মাথায় এই চার্জশিট পেশ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
চার্জশিটের মূল তথ্যসমূহ: ইডি-র দাবি, সোনা পাপ্পু প্রায় ৩৮ কোটি টাকার দুর্নীতি ও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। চার্জশিটে উঠে আসা কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো:
জমি দখলের কৌশল: প্রবীণ ও অসহায় জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি দখল করা এবং এরপর সেখানে বেআইনি নির্মাণ গড়ে তোলাই ছিল পাপ্পুর প্রধান ব্যবসা।
সাক্ষীর তালিকা: এই মামলায় তদন্তকারী সংস্থা প্রায় ২০০ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকায় রেখেছে।
প্রাক্তন পুলিশ কর্তার যোগ: চার্জশিটে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি এই দুর্নীতিচক্রকে প্রত্যক্ষভাবে মদত দিতেন বলে অভিযোগ।
অস্ত্রের লাইসেন্স: জয় কামদার নামে অপর এক অভিযুক্তের সহযোগিতায় সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে অস্ত্রের লাইসেন্স নেওয়া হয়েছিল। তল্লাশিতে ইডি সেই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারও করেছে।
কে এই সোনা পাপ্পু? দীর্ঘদিন ধরেই কসবা এলাকায় ‘মাসল পাওয়ার’ বা বাহুবলী ইমেজ ব্যবহার করে জমি দখল ও প্রতারণার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। রবীন্দ্র সরোবরের কাকুলিয়া রোড এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকেই সোনা পাপ্পু আত্মগোপন করেছিল। তদন্তে অসহযোগিতা এবং বক্তব্যের মধ্যে বিস্তর অসঙ্গতি মেলায় মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইডি তাকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করে।
বর্তমানে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত প্রতারণা ছাড়াও একাধিক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। ইডি-র এই চার্জশিট পেশের পর তদন্তে নতুন মোড় এল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, আদালতের পরবর্তী শুনানিতে এই চার্জশিটের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।