‘এটা ২০১৪ নয়, এটা মোদি সরকার!’ হাইড্রোজেন ট্রেন উদ্বোধনে কংগ্রেসকে তুলোধোনা প্রধানমন্ত্রীর

জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে একবিংশ শতাব্দীতে পরিবেশবান্ধব পরিবহনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার হরিয়ানার জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত দেশের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন যাত্রার সূচনা করলেন তিনি। এই উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রী মোদী উন্নয়নের গতির তুলনা টেনে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন।
কংগ্রেসকে মোদীর তোপ: প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০১৪ সালের আগের ভারতের সাথে আজকের ভারতের আকাশ-পাতাল পার্থক্য। যদি আজ ডিজেলের ঘাটতি হতো, তবে ২০১৪-র আগের নীতিতে দেশ থমকে যেত। কিন্তু এটা মোদী সরকার, যারা সমস্যা আসার আগেই সমাধানের প্রস্তুতি নিয়ে রাখে।”
রেলপথের বৈদ্যুতিকরণ নিয়ে পরিসংখ্যান তুলে ধরে মোদী দাবি করেন, গত ৯০ বছরে (১৯২৫-২০১৪) মাত্র ৩০ শতাংশ রেল নেটওয়ার্কের বৈদ্যুতিকরণ হয়েছিল। সেই গতিতে চললে পুরো কাজ শেষ করতে আরও ২০০ বছর লাগত। অথচ গত ১২ বছরে সরকার ৯৯ শতাংশ রেল নেটওয়ার্কের বৈদ্যুতিকরণ সম্পন্ন করেছে।
কেন হাইড্রোজেন ট্রেন এত গুরুত্বপূর্ণ? পশ্চিমাঞ্চলের যুদ্ধের আবহে জ্বালানি তেলের সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের জেরে পেট্রল-ডিজেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু আমাদের রেল নেটওয়ার্ক এখন বৈদ্যুতিকরণের ফলে সুরক্ষিত। এবার আমাদের লক্ষ্য হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন।”
ভারতীয় প্রযুক্তির জয়জয়কার:
ক্ষমতা: এটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ট্রেন, যার ক্ষমতা ৩,২০০ হর্সপাওয়ার।
দৈর্ঘ্য: বিশ্বের অন্যান্য দেশে ৩-৪ কোচের হাইড্রোজেন ট্রেন চললেও, ভারত প্রথম ১০ কোচের ট্রেন চালিয়ে নজির গড়েছে।
মেক ইন ইন্ডিয়া: ট্রেনের ডিজাইন থেকে শুরু করে পরিকাঠামো—পুরোটাই দেশের ইঞ্জিনিয়ার ও কোম্পানিগুলোর তৈরি।
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, জিন্দ-সোনিপত ৯১ কিমির এই যাত্রা দিয়েই শুরু। ভবিষ্যতে পুরো ভারতে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গবেষণায় জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। একইসঙ্গে জিন্দে হাইড্রোজেন ট্রেন কেন্দ্রিক পরিকাঠামো তৈরি হওয়ায় হরিয়ানার যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।