বিদেশ নির্ভরতা আর নয়! জ্বালানি সংকটে ভারত কি তৈরি ‘ইথানল বিপ্লব’-এর জন্য? মুখ খুললেন নীতিন গড়করি

বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ফের একবার জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে এসেছে। এমন এক নাজুক মুহূর্তে কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করি ভারতের জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ডাক দিলেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ভারতকে আর বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না। বিকল্প হিসেবে তিনি জোর দিয়েছেন ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি, হাইড্রোজেন এবং বৈদ্যুতিক যানের ওপর। CNN-News18-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গড়করি জানান, জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

ইথানল মিশ্রণ নিয়ে যে সমালোচনা চলছে, তাকে ‘স্বল্পজ্ঞানপ্রসূত’ বলে কটাক্ষ করেছেন মন্ত্রী। অনেকেই মনে করেন ইথানল মানেই খাদ্যশস্যের অপচয়। এর জবাবে গড়করি বলেন, “শহরকেন্দ্রিক মানুষের ধারণা ইথানল মানেই অ্যালকোহল, কিন্তু এটি পচা ফল, সবজি কিংবা কৃষিজ বর্জ্য থেকেও তৈরি করা সম্ভব।” কৃষকদের আয়ের পথ প্রশস্ত করতে ভুট্টা থেকে ইথানল তৈরির সরকারি সিদ্ধান্তের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এই নীতির ফলে ভুট্টার দাম কুইন্টাল প্রতি ১,২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২,৮০০ টাকায় পৌঁছেছে। যা কৃষকদের জীবনে এক বিরাট ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ই২০ বা ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে গাড়ির যান্ত্রিক সমস্যার অভিযোগগুলোকেও তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ই২০ জ্বালানি পুরনো ও নতুন সব ধরণের গাড়ির জন্যই পুরোপুরি নিরাপদ। মন্ত্রীর মতে, এই প্রযুক্তি নিয়ে ভুল তথ্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালানো হচ্ছে। “কোনও প্রযুক্তিই শতভাগ ত্রুটিমুক্ত নয়। গাড়িতে যান্ত্রিক সমস্যা হলে তা ডিলারের কাছে পরীক্ষা করানো উচিত, প্রতিটি সমস্যার জন্য ইথানলকে দায়ী করা অযৌক্তিক।”

দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার নিরিখে এই বদল অত্যন্ত জরুরি। পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০০৪ সাল থেকে গত দুই দশকে ভারত জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিতে প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যার ফলে দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে চলে গেছে। এছাড়া ভারতের বায়ুদূষণের ৪০ শতাংশই পরিবহণ খাতের জন্য দায়ী। এই দূষণ কমানো এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই মন্ত্রীর লক্ষ্য।

সবশেষে, নীতিন গড়করি এক আত্মবিশ্বাসী সুরেই জানালেন, ভারত এখন আমদানিকারক দেশ থেকে রফতানিকারক দেশে পরিণত হওয়ার পথে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থাকে আঁকড়ে ধরতে পারলেই ভারতের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বারবার জোর দিয়েছেন, ইথানল, হাইড্রোজেন এবং গ্রিন এনার্জিই আগামী দিনের ভারতের চালিকাশক্তি হতে চলেছে। ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে দেশবাসীকে এই পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী রূপান্তরকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।