১০ বছর আগে লেখা সেই আবেগঘন চিঠি! মেসিকে যে কথা বলেছিলেন কিশোর এনজো, আজ তা রূপকথার মতো সত্যি!

লিওনেল মেসির প্রতি এনজো ফার্নান্দেজের সেই ঐতিহাসিক ও আবেগঘন বার্তাটি আজ এক দশকেরও বেশি সময় পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রে। চেলসির এই মিডফিল্ডার বর্তমানে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের প্রাণভোমরা, কিন্তু একসময় তিনি ছিলেন মেসির অবসরের সিদ্ধান্তে ভেঙে পড়া এক কিশোর ভক্ত। আজ যখন এনজো ও মেসি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশ্বজয়ের পথে ছুটছেন, তখন ফিরে দেখা সেই অমোঘ স্মৃতি যেন এক রূপকথার গল্প।

ঘটনাটি ২০১৬ সালের। কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে পরাজিত হয়ে হতাশ মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই খবর শুনে গোটা বিশ্ব যখন স্তম্ভিত, তখন ১৫ বছর বয়সী কিশোর এনজো ফার্নান্দেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন। রিভার প্লেট অ্যাকাডেমির সেই তরুণ তারকা লিখেছিলেন, “লিওনেল, আমরা আপনাকে কীভাবে বোঝাব, যখন আমাদের জীবনে আপনার কাঁধের চাপের ১ শতাংশও কখনো আসেনি? আমরা আপনাকে কীভাবে বোঝাব, আপনি পৃথিবীর সেরা হলেও আদতে একজন রক্ত-মাংসের মানুষ। তোমার যা ইচ্ছা করো, কিন্তু দয়া করে থেকে যাওয়ার কথা ভাবো। তবে শুধু ট্রফির জন্য নয়, মজা করার জন্য থেকো, যেটা এই মানুষগুলো তোমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে।”

এনজোর সেই চিঠিতে ফুটে উঠেছিল এক ভক্তের অকৃত্রিম ভালোবাসা। তিনি লিখেছিলেন, “ছোটবেলায় তুমি আলবিসেলেস্তে জার্সি গায়ে চাপিয়ে মজা করার স্বপ্ন দেখেছিলে। তোমাকে খেলতে দেখাটা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় গর্ব। তুমি যখন মাঠে মজা করো, তখন আমরা কতটা মজা পাই তা কল্পনাও করতে পারবে না।”

আজ সেই কিশোর এনজো আর শুধু ভক্ত নন, মেসির সতীর্থ। গত ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সমতাসূচক গোল এবং লাউতারো মার্তিনেজকে দেওয়া সেই নিখুঁত পাস বুঝিয়ে দিয়েছে, মেসি কেন তাকে নিজের পাশে দেখতে চান। চলতি টুর্নামেন্টে মেসি যেন একাই সব আলো কেড়ে নিয়েছেন; ৭ ম্যাচে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাকে সর্বকালের সেরা বলা হয়।

মেসির সেই অবসর ভেঙে ফেরার সিদ্ধান্ত এবং এনজোর মতো তরুণ প্রজন্মের অকুতোভয় সমর্থন আর্জেন্টিনাকে আজ সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে এসেছে। রিভার প্লেট থেকে বেনফিকা এবং বর্তমানে চেলসির জার্সিতে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের তারকা হয়ে ওঠা এনজো ফার্নান্দেজ আজ তার আদর্শের পাশেই দাঁড়িয়ে জয়ের গল্প লিখছেন। এক দশকের ব্যবধানে একটি ছোট্ট চিঠির বার্তা আজ বাস্তবে রূপ পেয়েছে—মেসি আছেন, মেসি খেলছেন এবং গোটা বিশ্ব তার জাদুতে মাতোয়ারা।