ইউপিআই লেনদেনে বড় চমক! এবার কি পকেট কাটা পড়বে আপনার? জেনে নিন নতুন নিয়মের খুঁটিনাটি

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার মেরুদণ্ড এখন ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই (UPI)। দৈনন্দিন ছোটখাটো কেনাকাটা থেকে শুরু করে বড় লেনদেন—সবই এখন হাতের মুঠোয়। কিন্তু ডিজিটাল পেমেন্টের এই অবাধ সুযোগে এবার আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন। সূত্রের খবর, ইউপিআই লেনদেনে ফের ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ বা এমডিআর (MDR) ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কী এই নতুন নিয়ম?
২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিজিটাল পেমেন্টকে জনপ্রিয় করতে ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর শূন্য করে দিয়েছিল সরকার। কিন্তু গত ছয় বছরে ইউপিআই লেনদেনের সংখ্যা আকাশছোঁয়া হয়েছে। ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ সালে ইউপিআই লেনদেনের সংখ্যা ছিল মাত্র ২ কোটি, যা ২০২৬ সালের জুন মাসেই পৌঁছেছে ২২.৭২ বিলিয়ন লেনদেনে। এত বিপুল সংখ্যক লেনদেনের পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, সার্ভার খরচ ও সাইবার নিরাপত্তার খরচ বহন করা ব্যাঙ্ক ও পেমেন্ট সংস্থাগুলোর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সরকার ফের বড় ব্যবসায়ীদের ওপর এই চার্জ বসানোর কথা বিবেচনা করছে।

কাদের ওপর প্রভাব পড়বে?
সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই চার্জ সাধারণ গ্রাহক বা ছোট দোকানদারদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। প্রস্তাবিত এমডিআর শুধুমাত্র তাদের জন্যই প্রযোজ্য হবে:

যাদের বার্ষিক টার্নওভার ১ কোটি থেকে ১.৫ কোটি টাকা বা তার বেশি।

শুধুমাত্র ২,০০০ টাকার বেশি মূল্যের লেনদেনের ক্ষেত্রে এই ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
এমডিআর হার ০.০৫ শতাংশ থেকে ০.০৭ শতাংশের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, আপনার পাড়ার ছোট মুদি দোকান, রাস্তার হকার বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। ফলে দেশের ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।

কেন এই ভাবনা?
ব্যাঙ্ক ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারীরা দাবি জানিয়ে আসছেন যে, ভর্তুকি দিয়ে বিশাল ডিজিটাল লেনদেনের বোঝা বহন করা সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার জন্য যে খরচ হয়, তার ভারসাম্য বজায় রাখতেই সরকার সীমিত আকারে এমডিআর চালু করার চিন্তাভাবনা করছে। তবে এটি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি।

পরিশেষে, এই পদক্ষেপটি ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ হতে পারে। সরকার চেষ্টা করছে বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পরিকাঠামোগত ফি সংগ্রহ করে ডিজিটাল সিস্টেমকে আরও আধুনিক করতে, যাতে সাধারণ মানুষের অভ্যাসে কোনো বড় পরিবর্তন না আসে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে কোটি কোটি ইউপিআই ব্যবহারকারীর।