রথের রশিতে টান দিতেই বিভীষিকা! নন্দীগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ১৫, ১১ হাজার ভোল্টের লাইনে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

রথযাত্রার আনন্দের দিনে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে নেমে এল শোকের ছায়া। বৃহস্পতিবার বিকেলে নন্দীগ্রামের তেখালি বাজারে রথ টানার সময় ভয়াবহ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রথটি টানার সময় তার ওপরের চূড়াটি আচমকাই ওপর দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের একটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে আসে। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন রথের রশি ধরে থাকা ভক্তরা। উৎসবের আমেজ নিমেষেই পরিণত হয় আতঙ্কে।
ঘটনার আকস্মিকতায় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় তেখালি বাজার এলাকা। উপস্থিত মানুষজন দিশেহারা হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের ত্বরিত তৎপরতায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে ১৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও, বাকি ১০ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকদের দাবি, আহতদের শরীর দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি অনেকের হাড় ও পেশিতে আঘাত লেগেছে। তবে স্বস্তির খবর, আপাতত তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল।
কিন্তু কীভাবে ঘটল এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা? তেখালি বাজার কমিটির সম্পাদক সুরজিৎ মাল দাসের অভিযোগ, “প্রতি বছর রথ যে রাস্তায় যায়, সেখানে বিদ্যুতের তার কখনোই এত নিচুতে ঝুলে থাকত না। এবার কোনো কারণে তার ঝুলে ছিল, যা আমাদের নজরে আসেনি।” স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, উৎসবের দিনেও প্রশাসনের এ বিষয়ে কোনো সতর্কতা ছিল না। ১১ হাজার ভোল্টের লাইনের নিচে দিয়ে রথ যাওয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের সুরক্ষাবিধি মেনে চলা উচিত, তা মানা হয়নি বলেই তাঁদের দাবি।
নন্দীগ্রাম ৩ মণ্ডল সভাপতি বটকৃষ্ণ দাস হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে জানান, লাইনে ‘অটো-কাট’ সিস্টেম সক্রিয় থাকায় ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে। নাহলে প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল প্রবল। তিনি বলেন, “আহতদের চিকিৎসার সবরকম দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। বড় দুর্ঘটনা থেকে মানুষ বেঁচে গিয়েছেন, এটাই বড় কথা।” এদিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অনেকের হাতের চামড়া ঝলসে গিয়েছে এবং কেউ কেউ প্রচণ্ড ধাক্কায় কাঁধে গুরুতর চোট পেয়েছেন। ঘটনায় নন্দীগ্রাম জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রতি বছর রথযাত্রা উৎসব নিয়ে যে উন্মাদনা থাকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এখন সেই রাস্তায় রথ বের করার সময় সুরক্ষার বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র।