শেয়ার বাজারে আইটি খাতের ঝোড়ো ব্যাটিং! টেক মাহিন্দ্রার জাদুতে লগ্নিকারীদের পকেটে এল মোটা টাকা

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ভারতের শেয়ার বাজারে আইটি খাতের শেয়ারগুলো যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেল। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আইটি স্টক কেনার প্রবল উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। শুক্রবার ইনফোসিস, টিসিএস, এইচসিএল টেক এবং টেক মাহিন্দ্রার মতো প্রথম সারির সংস্থাগুলোর শেয়ারের দাম ৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উল্লম্ফনের মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে টেক মাহিন্দ্রার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের (Q1) দুর্দান্ত ফলাফল। প্রত্যাশার চেয়েও ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে পুরো আইটি খাতে এক ইতিবাচক আবহাওয়া তৈরি হয়েছে।

ব্যক্তিগত স্টকের দিকে তাকালে দেখা যায়, ইনফোসিসের শেয়ার ৩.৩ শতাংশ বেড়ে ১,১১৭ টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি এইচসিএল টেকের শেয়ার ৩ শতাংশ, টেক মাহিন্দ্রার ৩.৪ শতাংশ এবং টিসিএস-এর শেয়ার ২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পারসিস্টেন্ট সিস্টেমসও ১ শতাংশের বেশি মুনাফা অর্জন করেছে। তবে এই জয়যাত্রার মধ্যেও ব্যতিক্রম ছিল উইপ্রো। দুর্বল ত্রৈমাসিক ফলাফলের কারণে তাদের শেয়ার ৩ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও নিফটি আইটি সূচক ২.৩ শতাংশ বেড়ে ২৯,৩৮১ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

টেক মাহিন্দ্রার এই সাফল্যের পেছনে গ্লোবাল ব্রোকারেজ হাউস নোমুরার ইতিবাচক মূল্যায়ন কাজ করেছে। তাদের মতে, কোম্পানির ডলার আয় এবং অপারেটিং মার্জিন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো। ‘প্রজেক্ট ফরটিয়াস’ এবং রুপির অবমূল্যায়ন কোম্পানির মার্জিন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। ফলস্বরূপ, নোমুরা টেক মাহিন্দ্রার টার্গেট প্রাইস ১,৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০০ টাকা করেছে। একইভাবে নুভামা শক্তিশালী অর্ডার ভলিউম এবং মার্জিনের উন্নতি দেখে তাদের ‘বাই’ রেটিং বজায় রেখে টার্গেট প্রাইস ১,৮০০ টাকা নির্ধারণ করেছে। মতিলাল ওসওয়ালের মতে, এই গতি বজায় থাকলে আগামী বছরগুলিতে টেক মাহিন্দ্রা অন্যান্য বড় আইটি সংস্থাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।

এদিকে, আইটি খাতের এই চাঙ্গাভাবের পেছনে অন্য একটি বড় কারণ হলো এইচসিএল টেকের সাত বছরের নতুন চুক্তি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স’ কোম্পানির সঙ্গে তাদের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে কোম্পানির প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আধুনিক করার এই চুক্তিটি ভবিষ্যতে এইচসিএল টেকের রাজস্ব বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, উইপ্রোর ফলাফল বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছুটা উদ্বেগজনক। তাদের রাজস্ব এবং দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের পূর্বাভাস আশানুরূপ না হওয়ায় নোমুরা ও নুভামা উইপ্রোর টার্গেট প্রাইস কমিয়ে দিয়েছে। তবুও স্টকটিতে ‘বাই’ রেটিং বজায় রাখা হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, আইটি খাত এখনও বিশ্বব্যাপী ব্যয়ের মন্দা ও এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাপের মতো চ্যালেঞ্জগুলোর সম্মুখীন। তবুও, শক্তিশালী অর্ডার এবং আধুনিক প্রযুক্তির হাত ধরে ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী ত্রৈমাসিকগুলোতে এই সংস্থাগুলোর প্রবৃদ্ধির হারই হবে বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ার মূল চাবিকাঠি।