গলার সুর হারিয়েছিল সিগারেট ও মদের টানে! কিশোর কুমারের দেওয়া সেই সতর্কবাণী আজ মেনে চলেন অমিত কুমার

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের অমর শিল্পী কিশোর কুমার। তাঁর অসামান্য গায়কী প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করেছে। সেই কিংবদন্তি গায়কের সুযোগ্য পুত্র অমিত কুমার নিজেও একজন দক্ষ শিল্পী। তবে বাবার সঙ্গে সম্পর্ক এবং বাবার শাসনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা যে সাবধানবাণীগুলো তাঁকে শিল্পী হিসেবে তৈরি করেছিল, তা নিয়ে সম্প্রতি এক খোলামেলা আলোচনা করলেন অমিত কুমার। এক সাক্ষাৎকারে অমিত কুমার জানিয়েছেন, তাঁর বাবা ব্যক্তিগত জীবনে খুব একটা কঠোর মানুষ ছিলেন না, কিন্তু গায়কীর ক্ষেত্রে বিশেষ দু’টি বিষয়ে তাঁর অসম্ভব আপত্তি ছিল।

অমিত কুমার জানান, বাবা কিশোর কুমার তাঁকে দু’টি বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন—সিগারেট এবং মদ্যপান। গায়ক বলেন, “বাবা একদমই পছন্দ করতেন না আমি ধূমপান করি বা মদ্যপান করি। তিনি বলতেন, তোমার এত ভালো গলা, সিগারেট আর মদের নেশা সেই গলার সর্বনাশ করে দেবে।” বাবা কিশোর কুমারের এই সতর্কবার্তাকে শুরুতে হয়তো খুব একটা গুরুত্ব দেননি তরুণ অমিত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অমিত নিজেই অনুভব করেছেন যে, বাবার কথাই শেষপর্যন্ত সত্যি হয়েছে। গলার সুরে যে সূক্ষ্ম সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তার জন্য এই নেশাই দায়ী ছিল বলে স্বীকার করেছেন অমিত। তিনি আরও বলেন, “আমি যখন সুর লাগাতাম, একটা-দু’টো জায়গা ওই নেশার কারণে সমস্যা তৈরি হতো। পরে অবশ্য সেটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি।”

অমিত কুমারের মুখে নিজের গলার সমস্যার এই অকপট স্বীকারোক্তি শুনে অনুরাগীরা অবাক হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর এই স্বচ্ছতা মন জয় করেছে অনেকের। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক অনুরাগী লিখেছেন, “অমিত কুমার যতই বলুন ওঁর গলা খারাপ হয়েছিল, শ্রোতা হিসেবে আমরা তা বুঝতে পারিনি। ওঁর গাওয়া দুর্দান্ত সব গান আজও আমাদের হৃদয়ে স্পন্দিত হয়।” অন্য একজন লিখেছেন, “অমিত কুমারের এই বক্তব্য নতুন প্রজন্মের গায়ক-গায়িকাদের শোনা উচিত। শিল্পীরা যদি বুঝতে পারেন সিগারেট বা মদের নেশা তাঁদের সম্পদকে নষ্ট করছে, তবেই তাঁরা আরও দীর্ঘ সময় সুরের সাধনা চালিয়ে যেতে পারবেন।”

কেরিয়ারের এই পর্যায়ে এসেও অমিত কুমার নতুন উদ্যমে কাজ করে চলেছেন। জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই একটি নতুন বাংলা ছবিতে তাঁকে গাইতে দেখা যেতে পারে। জীবনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে যে সুরের পথে ফিরে আসা যায়, অমিত কুমারের এই জার্নি তারই বড় প্রমাণ। একজন কিংবদন্তির সন্তান হিসেবে বাবার দেখানো আদর্শকে তিনি যতটা গুরুত্ব দিয়ে আঁকড়ে ধরেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সুরের জগতের মানুষদের জন্য অমিতের এই বার্তা আগামী দিনের এক বড় শিক্ষা হিসেবে গণ্য হবে।