উত্তরপ্রদেশবাসীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ! বাড়তে চলেছে গৃহ কর, পকেটে টান পড়ার আশঙ্কায় মধ্যবিত্ত

উত্তরপ্রদেশের শহরাঞ্চলে বসবাসকারী বাসিন্দাদের জন্য দুঃসংবাদ! প্রায় ১৫ বছর পর রাজ্যের সমস্ত পৌর কর্পোরেশনের জন্য গৃহ করের (House Tax) হার পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনে নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপতে চলেছে। রাজ্য সরকারের দাবি, পৌর সংস্থাগুলোর আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে এবং নগরায়ণের চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নাগরিক পরিষেবা উন্নত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশ মিউনিসিপ্যাল ফিন্যান্সিয়াল রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট বোর্ড সূত্রে খবর, রাজ্যের সমস্ত পৌর কর্পোরেশনের বর্তমান গৃহ করের হার পর্যালোচনা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বোর্ডের যুক্তি, মুদ্রাস্ফীতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন নগর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিপুল তহবিলের প্রয়োজন। বিগত বছরগুলোতে পৌর সংস্থাগুলোর আয় ও ব্যয়ের মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা মেটাতেই কর কাঠামোয় বদল আনা জরুরি।

রাজধানী লখনউয়ের চিত্রটি আরও স্পষ্ট। এখানে ২০১০ সাল থেকে গৃহ করের হারে কোনো বড় পরিবর্তন আনা হয়নি। যদিও ২০১৬ এবং ২০২৩ সালে পৌরসভা কর বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং কাউন্সিলরদের তীব্র বিরোধিতার মুখে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সরাসরি রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপে গৃহ কর সংশোধনের তোড়জোড় শুরু হওয়ায় এটি বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

পৌর সংস্থাগুলোর আয়ের প্রধান উৎসই হলো সম্পত্তি কর। এই কর থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে রাস্তাঘাট নির্মাণ, পানীয় জল সরবরাহ, নিকাশী ব্যবস্থা, স্ট্রিট লাইট এবং অন্যান্য মৌলিক নাগরিক সুবিধা প্রদান করা হয়। পৌর কর্তৃপক্ষের মতে, বহু বছর আগের কর কাঠামোয় বর্তমান সময়ের উন্নয়নমূলক কাজ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকার মনে করছে, যদি করের হার সময়োপযোগী করা হয়, তবেই প্রতিটি এলাকায় নাগরিক পরিষেবা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

তবে কর বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ মোটেও মসৃণ নয়। সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপের কারণে রাজনৈতিক মহলে ফের বড় ধরণের বিরোধিতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অতীতে কাউন্সিলররা এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তাই সরকার এবার তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসার ইঙ্গিত দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নাগরিক সুবিধা ও জনগণের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার শেষ পর্যন্ত কী কৌশল গ্রহণ করে।