ভারতের পথে প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন! ডিজেল-বিদ্যুৎ ছাড়াই ছুটবে ইঞ্জিন, জেনে নিন কী কী সুবিধা রয়েছে

ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ওপর ভর করে দেশের মাটিতে এবার যাত্রা শুরু করতে চলেছে ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই ট্রেনটি হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত রুটে যাত্রী পরিষেবা প্রদানের জন্য প্রস্তুত। প্রায় ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ অতিক্রম করতে ট্রেনটির সময় লাগবে মাত্র দুই ঘণ্টা। দশটি বগি বিশিষ্ট এই ট্রেনটি যাত্রাপথে ১১টি স্টেশনে থামবে, যা স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে রেল কর্তৃপক্ষ কোনো ফাঁক রাখেনি। চূড়ান্ত বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর আগে গবেষণা নকশা ও মান সংস্থা (RDSO) ট্রেনটির প্রতিটি খুঁটিনাটি পরীক্ষা করেছে। ট্রেনের গতি, ব্রেকিং সিস্টেম এবং কম্পনসহ বিভিন্ন কারিগরি দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুন মাসে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে এই হাইড্রোজেন ট্রেনের সফল উচ্চগতির পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।

এই ট্রেনের মূল চালিকাশক্তি হলো এর ২৪০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক ফুয়েল সেল প্রপালশন সিস্টেম। বাণিজ্যিক চলাচলের সুবিধার্থে এর গতিসীমা ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার রাখা হলেও, প্রযুক্তিগতভাবে এটি ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলার ক্ষমতা রাখে। ট্রেনটির মোট ১০টি কোচে একসঙ্গে প্রায় ২,৬০০ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। যাত্রীদের আরাম ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় দরজা, কার্যকর ডিসি এয়ার কন্ডিশনিং এবং উন্নতমানের আরামদায়ক আসন।

যেহেতু হাইড্রোজেন অত্যন্ত দাহ্য একটি গ্যাস, তাই নিরাপত্তার দিকটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গ্যাসটি বিশেষ উচ্চচাপযুক্ত ট্যাঙ্কে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করা হবে এবং ট্রেনের নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবার জন্য বিশেষ রিফুয়েলিং স্টেশনও তৈরি করা হয়েছে। পরিবেশগত দিক থেকে এই ট্রেনের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রচলিত ডিজেল চালিত ট্রেনের তুলনায় এটি শূন্য কার্বন নিঃসরণ নিশ্চিত করে, যা ভারতের ‘গ্রিন এনার্জি’ লক্ষ্যের পথে একটি বড় পদক্ষেপ।

এই ট্রেন উদ্বোধনের মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই স্বল্প সংখ্যক উন্নত দেশগুলির ‘এলিট ক্লাবে’ অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে, যাদের নিজস্ব হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেন পরিষেবা রয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় এই ট্রেন এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে।