স্কুলের ডায়েরিতে ‘কালিমা’ মুখস্থ করার নির্দেশ! হায়দ্রাবাদের নামী স্কুলে ২য় শ্রেণির ছাত্রকে নিয়ে তীব্র বিতর্ক

হায়দ্রাবাদের পুরনো শহরের সাইদাবাদ এলাকায় অবস্থিত ‘দ্য সাকসেস স্কুল’ এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। দ্বিতীয় শ্রেণির এক হিন্দু ছাত্রকে বাড়ির কাজ বা হোমওয়ার্ক হিসেবে ইসলাম ধর্মের ‘কালিমা’ ও ‘সূরা আল-ফাতিহা’ মুখস্থ করার নির্দেশ দেওয়ায় অভিভাবক ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ছাত্রটির স্কুলের ডায়েরি থেকে। পরিবারের সদস্যরা হঠাৎই ডায়েরিতে দেখতে পান যে, দ্বিতীয় শ্রেণির ওই খুদে পড়ুয়াকে ইসলামি মন্ত্র পাঠ ও মুখস্থ করার অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই হতবাক হয়ে যান ছাত্রটির বাবা-মা। তাদের অভিযোগ, এটি কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর আগেও তাদের সন্তানকে একই ধরণের ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বাড়ির কাজ দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের প্রশ্ন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন ভিন্ন ধর্মের শিশুকে এভাবে অন্য ধর্মের প্রার্থনা মুখস্থ করতে বাধ্য করা হচ্ছে?
ছাত্রটির অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এর কঠোর ব্যাখ্যা দাবি করেন। তাদের মতে, স্কুলের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করা, সেখানে শিশুদের উপর জোর করে ধর্মীয় রীতিনীতি চাপিয়ে দেওয়া একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং অনৈতিক। এই খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড় ওঠে। স্থানীয় মানুষ এবং অভিভাবকদের মতে, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচিত সমস্ত ধর্মের শিক্ষার্থীদের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বিতর্কটি গুরুতর আকার ধারণ করলে এবং অভিভাবকরা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারে। স্কুল প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষিকা শেখ আয়েশা পারভীনকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু এতেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি।
এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিজেপি। স্কুলের সামনে বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন বিজেপি নেতা আন্দেলা শ্রীরামুলু যাদব এবং তাঁর অনুগামীরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই ধরণের কার্যকলাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি, সংশ্লিষ্ট স্কুল এবং ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখাগুলোকেও দ্রুত বন্ধ করে দিতে হবে এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজেপি নেতা ও কর্মীদের আটক করে। অভিভাবকরা এখন শিক্ষা বিভাগের কাছে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও নজরদারির দাবি জানাচ্ছেন।