জেলখানায় চার হাত এক! রাজস্থান হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে ওপেন জেলে বসছে বিয়ের আসর

কারাগারের চার দেওয়াল কি আর ভালোবাসার পথে বাধা হতে পারে? অন্তত রাজস্থান হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক যুগান্তকারী রায় সেই বার্তাই দিচ্ছে। জেল সংস্কার এবং বন্দিদের সামাজিক পুনর্বাসনের পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়ে আদালত जोधपुरের মান্দোর ওপেন জেলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক পুরুষ এবং প্যারোলে থাকা এক মহিলা বন্দিকে বিয়ের অনুমতি দিয়েছে। আগামী ২২ জুলাই জেল প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে মান্দোর ওপেন জেল চত্বরেই সম্পন্ন হবে এই বিবাহের অনুষ্ঠান।

বিচারপতি ড. পুষ্পেন্দ্র সিং ভাটি এবং বিচারপতি প্রবীর ভটনাগারের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ প্রদান করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কারাগারের মূল উদ্দেশ্য কেবল শাস্তি প্রদান নয়, বরং অপরাধীদের মানসিক সংশোধন এবং তাদের সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা। বন্দিদের মর্যাদা এবং তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনের অধিকার দেওয়া এই সংশোধনমূলক বিচার ব্যবস্থারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ঘটনার সূত্রপাত মান্দোর ওপেন জেলে। নাগৌর জেলার অডসিংা গ্রামের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী মূলারাম ভাটি ২০১৭ সাল থেকে জেল খাটছেন। বছর দুয়েক আগে তাঁকে আজমির থেকে মান্দোর ওপেন জেলে স্থানান্তর করা হয়। অন্যদিকে, মুম্বাইয়ের ৩১ বছর বয়সী সীমাকেও বছর দেড়েক আগে এই একই জেলে পাঠানো হয়। ওপেন জেলের নিয়ম অনুযায়ী বন্দিরা দিনের বেলা কৃষি বা অন্যান্য কাজে নিয়োজিত থাকেন। সেই সূত্রে পরিচিতি থেকে ঘনিষ্ঠতা, আর শেষ পর্যন্ত প্রেমে পড়েন মূলারাম ও সীমা।

সম্প্রতি সীমা ৪০ দিনের প্যারোল পাওয়ায় দুজনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। রাজ্যের পক্ষ থেকে এই বিয়েতে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিয়ের অনুষ্ঠানে কনের ‘কন্যাদান’ করবেন সীমা এক বন্ধুর বাবা। এমনকী বিয়ের কার্ডেও পিতার জায়গায় তাঁর নামই থাকছে।

বিচারপতিরা তাঁদের রায়ে ২০২২ সালের ‘নন্দলাল বনাম রাজস্থান রাজ্য’ মামলার নজির তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, মূলারাম এক প্রতিবেশীকে হত্যার দায়ে ২০২৩ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। অন্যদিকে, সীমা বিয়ের মাত্র দুই মাস পর স্বামীর ওপর কুঠার দিয়ে আক্রমণের অভিযোগে ২০১৯ সালে যাবজ্জীবন দণ্ড পেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনের চরম ব্যর্থতা ও অপরাধের শাস্তির মাঝে দাঁড়িয়ে, এই দুই বন্দি এখন এক নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখছেন। আদালতের এই মানবিক সিদ্ধান্ত অপরাধী সংশোধনের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।