হামাস কমান্ডার নিকেশ! গাজায় বিধ্বংসী বিমান হামলা ইজরায়েলি বাহিনীর, যুদ্ধবিরতির মধ্যেই বড় অঘটন

ইজরায়েল এবং হামাসের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কোনো বিরাম নেই। গত ৭ অক্টোবর, ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ আজও বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম উত্তপ্ত ইস্যু। ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর (IDF) ক্রমাগত হামলায় গাজা শহর কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। লক্ষাধিক ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে এবং নিহতের সংখ্যা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও গাজায় ইজরায়েলি বিমান হামলা বিন্দুমাত্র কমেনি। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে IDF দাবি করেছে যে, তারা হামাসের বিশেষ স্নাইপার ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ওমর আহমেদ আবু কাসিমকে খতম করেছে।
ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মধ্য গাজায় একটি সুনির্দিষ্ট বিমান হামলায় এই কুখ্যাত কমান্ডার নিহত হয়েছেন। আবু কাসিম সরাসরি হামাসের সামরিক শাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ইজরায়েলি সেনাদের ওপর একাধিক হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। সেনাসূত্র জানাচ্ছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও আবু কাসিম গোপনে হামাসের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন এবং নতুন হামলার ছক কষছিলেন, যা ইজরায়েলি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি ছিল। যদিও এই দাবি নিয়ে হামাসের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
শুধু আবু কাসিমই নন, গত মঙ্গলবার উত্তর গাজায় আরও বড় ধাক্কা খেয়েছে হামাস। ইজরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের এলিট ‘নুখবা’ কোম্পানির উপ-কমান্ডার আলি শামলাখ এবং ‘সাবরা’ ব্যাটালিয়নের নুখবা সেলের প্রধান নাসির লোহ নিহত হয়েছে। IDF-এর দাবি, এই জঙ্গিরা স্থানীয় ইজরায়েলি নাগরিক ও সেনাদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল। তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই গাজায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছিল। এই নির্ভুল হামলার মাধ্যমে ইজরায়েল তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনে অনেকটা সফল হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে এই সামরিক সাফল্যের উল্টোদিকে রয়েছে সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক পরিণতি। গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন প্রান্তে ইজরায়েলি হামলায় অন্তত ১৬ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশু, নারী এবং মানবিক ত্রাণপ্রার্থী সাধারণ মানুষও রয়েছেন। উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিণ গাজায় পুলিশের চৌকি, বসতবাড়ি এবং শরণার্থী শিবিরগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর, ২০২৫ থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও অন্তত ১,১২৩ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন প্রায় ৩,৫৯৯ জন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ভয়াবহ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুবছরের এই নারকীয় যুদ্ধে নিহতের মোট সংখ্যা ৭৩,২৪৭ ছাড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১,৭৩,৭০৭ জনেরও বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আজও চাপা পড়ে আছে হাজার হাজার দেহ, যা উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ মৃত ব্যক্তিই নারী ও শিশু। যুদ্ধবিরতির আহ্বান এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপ সত্ত্বেও গাজায় ইজরায়েলি অভিযানের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে, যা অঞ্চলটিকে এক অমানবিক পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই সংঘাত কবে থামবে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।