শহিদ দিবস কার? মমতা-ঋতব্রত-কংগ্রেসের পর কি মঞ্চ বাঁধবে NCPI? তুঙ্গে জল্পনা

একুশে জুলাই, যে দিনটি দীর্ঘ সময় ধরে ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিপ্রদর্শনের মঞ্চ, সেই দিনটিই এখন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বহুধা বিভক্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্যের সেই দিন এখন পৃথক শিবিরের আলাদা আলাদা সভার সাক্ষী হতে চলেছে। এবার সেই তালিকায় নতুন নাম হিসেবে উঠে এসেছে এনসিপিআই (NCPI)-এর সম্ভাব্য নাম।

চার শিবিরের লড়াই? কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, এবারের ২১ জুলাই কলকাতায় চারটি আলাদা রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি হতে পারে: ১. কংগ্রেস: শহিদ মিনারে তাদের কর্মসূচি। ২. ঋতব্রত শিবির: গান্ধীমূর্তির পাদদেশে তাদের সমাবেশ। ৩. কালীঘাট তৃণমূল: আদালতের নির্দেশে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে তাদের সভা। ৪. এনসিপিআই (NCPI): কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ইঙ্গিত অনুযায়ী, তারাও শহিদ স্মরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের যুক্তি সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, শহিদ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নন। তিনি বলেন, “শহিদ সবার। যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব। তাই আমরাও এই দিনটি পালন করব।” যদিও কর্মসূচি বা স্থান নিয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ঘোষণা করেননি, তবে তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তীব্র কটাক্ষ মহুয়া মৈত্রের এনসিপিআই-এর এই সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি তীক্ষ্ণ ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন, “এনসিপিআই সাংসদরা সেদিন আদৌ বাংলায় থাকবেন তো? তাঁরা কি আলাদা করে অনুমতি নেবেন? বাংলার মানুষ এখন এক অদ্ভুত রাজনৈতিক সার্কাস দেখছেন।”

ঐক্যের প্রতীক বনাম বিভাজিত রাজনীতি এক সময় যে একুশে জুলাই তৃণমূলের ঐক্যের প্রতীক ছিল, আজ সেই দিনটিতেই একই শহিদের স্মরণে আলাদা আলাদা মঞ্চ বাংলার রাজনীতির এক নতুন এবং অদ্ভুত অধ্যায়ের সূচনা করছে। এই রাজনৈতিক বিভাজন আদৌ কোনো গঠনমূলক আলোচনার জন্ম দেবে, নাকি তা আরও বেশি অস্থিরতা তৈরি করবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

সব মিলিয়ে, একুশে জুলাইয়ের সকাল থেকেই ধর্মতলা চত্বর ও তার আশপাশের এলাকা ঘিরে এক জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে।