কেতন-সিয়ার ‘গোপন বিয়ে’-র কোনো প্রমাণই মিলল না মন্দিরে! অস্বস্তিতে ক্রাইম ব্রাঞ্চ?

পুনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে লোহাগড় দুর্গে ধাক্কা দিয়ে হত্যার ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই ধোঁয়াশা বাড়ছে। এই মামলার প্রধান দুই অভিযুক্ত—সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরীর বিয়ের দাবি ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ালো। এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পুনের ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল রাজস্থানের সেই মন্দিরে হানা দিলেও, বিয়ের সপক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ পায়নি তারা।
কী জানা যাচ্ছে তদন্তে? পুলিশের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া চ্যাটে জানা গিয়েছিল, গত বছরের ডিসেম্বরে সিয়া ও চেতন গোপনে রাজস্থানের একটি মন্দিরে বিয়ে করেছিলেন। এই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ ও নথিপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, তাঁদের সেখানে উপস্থিত থাকা বা বিয়ের কোনো ভিডিও ফুটেজ বা নথিপত্র উদ্ধার হয়নি। মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেও এই বিয়ের কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিকল্পিত খুন নাকি অন্য কিছু? রাজস্থান সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল, দুই অভিযুক্তের সম্পর্কের সঠিক সময়রেখা (Timeline) তৈরি করা। তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, বিয়ের এই তথাকথিত দাবিটি কি খুনের পরিকল্পনাকে আরও গভীর করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য আছে। এখন ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ ও মোবাইল চ্যাটই হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মামলার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।
তদন্তে পুলিশের চ্যালেঞ্জ: পুলিশের অনুমান, ২০ বছর বয়সী সিয়া এবং ২২ বছর বয়সী চেতন গত ১৮ জুন দুর্গে ট্রেকিংয়ের সময় সুপরিকল্পিতভাবেই ২৫ বছর বয়সী কেতন আগরওয়ালকে খাদে ফেলে দেন। কিন্তু বিয়ের দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ না মেলায় পুলিশের করা দাবি কতটা আদালতে টিকবে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বিয়ের তথ্য সঠিক কি না, তা যাচাই করা খুব জরুরি, কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই খুনের মোটিভ বা উদ্দেশ্য পরিষ্কার হবে।
বর্তমানে অভিযুক্তরা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশের লক্ষ্য, ইলেকট্রনিক তথ্য-প্রমাণ ও ডিজিটাল ডেটা অ্যানালিসিসের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্রটি সামনে আনা। কেতন হত্যায় সত্যিই কোনো বড়সড় ষড়যন্ত্র ছিল কি না, নাকি এটি নিছকই আবেগতাড়িত অপরাধ, এখন সেটাই বড় আলোচনার বিষয়।