ধাম’ লিখে অহঙ্কার করেছিলেন মমতা! জগন্নাথ দয়িতাপতির বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান পানিগ্রাহী জগন্নাথ দয়িতাপতির একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। জগন্নাথ দয়িতাপতি স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পরামর্শ উপেক্ষা করে দিঘায় পাথরের মূর্তি বসিয়ে তাকে ‘দিঘা ধাম’ হিসেবে নামকরণ করেছিলেন। দয়িতাপতির দাবি, এই অহঙ্কারই ছিল মমতা সরকারের পতনের অন্যতম কারণ।

এই বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জগন্নাথ দয়িতাপতি বলেন, “আমি কোনো রাজনীতি করি না। যেটা ন্যায়সংগত, আমি সেটাই বলি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কথা শোনেননি। তিনি দিঘায় ‘ধাম’ লিখেছিলেন এবং পাথরের মূর্তি বসিয়েছিলেন। কিন্তু মনে রাখা উচিত, ঈশ্বর কারও অহঙ্কার সহ্য করেন না।” তিনি আরও যোগ করেন, “শুভেন্দু অধিকারী আমার শিষ্য। ও যখনই এটা জানতে পেরেছিল, তখনই সঙ্গে সঙ্গে ধাম লেখাটি মুছে ফেলেছিল। জগন্নাথ ধাম একটাই, সেখানে অন্য কোথাও ধাম লিখে লাভ কী? এই গর্বই সরকার পতনের কারণ হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, রথযাত্রার পুণ্য লগ্নে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের পুরোহিতের এমন রাজনৈতিক মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বাংলার শাসকদলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই বিতর্কের বাইরেও পুরীর এখনকার চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। চৈতন্য মহাপ্রভুর পুণ্যভূমি বাংলার প্রতি নিজের অগাধ শ্রদ্ধার কথা জানিয়ে জগন্নাথ দয়িতাপতি বলেন, “বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি এবং আশীর্বাদ করি।”

এদিকে রথযাত্রা উপলক্ষে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে পুরীর জগন্নাথ ধামে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টির ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেই হাজার হাজার ভক্তের ঢল নেমেছে সৈকত শহরে। শুক্লপক্ষের পুণ্য তিথিতে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ টানার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন ভক্তরা। রথযাত্রার শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, সবার আগে থাকে বলরামের রথ ‘তালধ্বজ’, যা গুরুর প্রতীক। তার পেছনে থাকে ভক্তির প্রতীক সুভদ্রার রথ ‘দর্পদলন’, এবং সবশেষে ঈশ্বরের প্রতীক জগন্নাথের রথ ‘নন্দীঘোষ’। বলা হয়, গুরুর হাত ধরে ভক্তির পথ পেরিয়েই ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানো যায়।

এবারও তিনটি রথ তৈরি হয়েছে বিশেষ ধরনের কাঠ দিয়ে। রথযাত্রা উপলক্ষে পুরীর সমুদ্রসৈকতে মহাপ্রভু জগন্নাথের এক বিশাল প্রতিকৃতি তৈরি করেছেন পদ্মশ্রী প্রাপ্ত বালুশিল্পী সুদর্শন পট্টনায়ক, যা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিতর্ক একপাশে সরিয়ে রেখে, বর্তমানে রথের রশি স্পর্শ করার ব্যাকুলতা এবং জগন্নাথ দেবের দর্শন লাভের আশায় আপামর ভক্তকুল এখন পুরী অভিমুখে। রথযাত্রার এই পবিত্র দিনে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ভক্তরা এখন কেবলই মহাপ্রভুর আশীর্বাদের অপেক্ষায়।