আর জি করের পর এবার কামদুনি? নতুন সরকারের দরবারে বিচারের আশায় নির্যাতিতার পরিবার!

আর জি কর কাণ্ডের ছায়া কাটিয়ে যখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি, ঠিক তখনই নতুন করে শিরোনামে কামদুনি। সরকার পরিবর্তনের পরেই যেন আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন দীর্ঘদিনের ন্যায়প্রার্থী কামদুনির সেই নির্যাতিতার পরিবার। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে সশরীরে উপস্থিত হন তাঁরা। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে নতুন সরকারের কাছে সাহায্যের আর্জি জানান পরিবারের সদস্যরা। জনতার দরবার থেকে বেরিয়ে আসার সময় নির্যাতিতার পরিবারের কন্ঠে ছিল স্পষ্ট আশাবাদ। তাঁরা দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, “এতদিন অন্ধকারে ছিলাম, কিন্তু এবার বিচার পাওয়ার আশা দেখছি। আমরা নতুন সরকারের কাছে আশার আলো খুঁজে পেয়েছি।”
দীর্ঘদিনের এই লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এদিন কামদুনির পরিবার আগের তৃণমূল সরকার সম্পর্কে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, তৎকালীন রাজ্য সরকার এই স্পর্শকাতর মামলাটিকে পরিকল্পিতভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। অপরাধীদের আড়াল করার অভিযোগে সরব হয়ে পরিবারটি জানায়, বিচারের পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল দীর্ঘ সময় ধরে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মামলার গুরুত্ব কমিয়ে ফেলার যে অভিযোগ তাঁরা এতদিন ধরে করে আসছিলেন, এদিন নতুন করে তা আবারও সামনে আনলেন তাঁরা।
অন্যদিকে, এই গোটা ঘটনাপ্রবাহ ও কামদুনির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত সংযত ও স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কামদুনি সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর এবং তাঁর সরকারের অবস্থান আগে থেকেই খুব স্পষ্ট ছিল। বিচারের স্বার্থে যা যা করণীয়, সরকার তাতে বদ্ধপরিকর। প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে এই ধরণের স্পর্শকাতর মামলায় যে নতুন সরকার আইনানুগ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে চায়, তা এদিন তাঁর কথাতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আর জি কর ইস্যুর মতো কামদুনি কাণ্ডকেও নতুন সরকার কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার শীর্ষে নিয়ে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কামদুনির সেই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পরিবারের আর্তনাদ থামেনি। এখন নতুন সরকারের এই ‘জনতার দরবার’ এবং মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাসে কতটা দ্রুত ন্যায়বিচার বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আপামর বাংলা। পরিবারটি এদিন আবারও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাঁরা শুধুমাত্র ন্যায়বিচার চান, যাতে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি সুনিশ্চিত হয় এবং তাঁদের বছরের পর বছরের লড়াই সফল হয়। রাজ্যের প্রশাসনিক রদবদলের পর এটাই কি কামদুনির বিচার পাওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।