ইডির তলব পেতেই শিবির বদল মদন মিত্রের! তৃণমূলে কি ভাঙনের সুর?

মঙ্গলবার পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় স্ত্রী ও দুই ছেলেকে ইডির তলবের পরই কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল জল্পনা। মঙ্গলবার রাতেই তিনি ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাসভবনে হাজির হন। এরপর বুধবার সকালে সরাসরি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন তিনি। দীর্ঘদিনের তৃণমূল সঙ্গী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতার হঠাৎ এমন দলবদল রাজনৈতিক মহলে এক বিশাল ভূমিকম্পের সৃষ্টি করেছে।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির দাবি, কামারহাটি ও টিটাগড় পুরসভায় অন্তত ১২৫টি নিয়োগের ক্ষেত্রে নগদ অর্থ বা সোনাদানা ঘুষের লেনদেন হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, করোনা পরবর্তী সময়ে মদন মিত্রের সরাসরি সুপারিশেই ১০০-র বেশি মানুষ চাকরি পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, মদন মিত্রের স্ত্রী অর্চনা মিত্র এবং দুই ছেলে স্বরূপ ও শুভরূপ মিত্রের নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে বেশ কিছু সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই অর্থ পুরসভার চাকরি বিক্রির টাকা কি না, তা খতিয়ে দেখতেই ইডি আগামী ২২ ও ২৩ জুলাই তাঁদের তলব করেছে।

এর আগে গত ১৩ জুন মদন মিত্রের বিভিন্ন ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালায় ইডি। তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। তবে ঠিক ইডির চাপের মুখেই এই দলবদল, নাকি দলের অন্দরে নেতৃত্বের ওপর দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ—তা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইডির নথিপত্রের চাপে কোণঠাসা হয়েই কি তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন? অন্যদিকে, মদন মিত্রের দাবি, তিনি পরিস্থিতির চাপে নয়, বরং রাজনীতির নতুন সমীকরণ বুঝে এই পথে পা বাড়িয়েছেন। তাঁর এই নাটকীয় দলবদল আসন্ন দিনগুলোতে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও কোন চমক নিয়ে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।