শিলিগুড়িতে বনমন্ত্রীর ‘মাস্টারস্ট্রোক’! বেঙ্গল সাফারিকে বিশ্বমানের করে তুলতে বড় ঘোষণা মনোজ ওরাওঁয়ের

অরণ্য সপ্তাহের আবহে শিলিগুড়ির পর্যটন মানচিত্রে এল এক নতুন দিগন্ত। নবগঠিত রাজ্য সরকারের বনমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সরকারি সফরে উত্তরবঙ্গে পা রাখলেন মনোজ কুমার ওরাওঁ। তাঁর এই সফর ঘিরে প্রশাসনিক মহলে যেমন তৎপরতা ছিল, তেমনই পর্যটন শিল্পের বিকাশে আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বেঙ্গল সাফারিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন এবং ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়িকা শিখা চ্যাটার্জি সহ বন দফতরের শীর্ষ কর্তারা।

সফরের শুরুতেই বনমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দেন। এরপর বিশেষ সাফারি গাড়িতে চেপে তিনি পুরো বেঙ্গল সাফারি চত্বর পরিদর্শন করেন। বাঘ, ভালুক, গন্ডার সহ পশুপাখিদের আবাসস্থল এবং পর্যটকদের জন্য গড়ে তোলা পরিকাঠামো খুঁটিয়ে দেখেন তিনি। প্রশাসনিক বৈঠকে পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকদের অভিজ্ঞতা কীভাবে আরও আধুনিক ও আরামদায়ক করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৈঠক শেষে বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ উত্তরবঙ্গকে নতুনভাবে সাজানোর রূপরেখা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, “বেঙ্গল সাফারিকে এমন একটি গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে। পর্যটন পরিকাঠামো বাড়াতে নতুন সব পরিকল্পনার কাজ চলছে।” পর্যটন ও স্থানীয় মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে মন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। বর্তমানে বেঙ্গল সাফারির আশেপাশে যে পাঁচ কিলোমিটার ইকো-সেনসিটিভ জোন রয়েছে, তা কমিয়ে এক কিলোমিটারে নামিয়ে আনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রীর আশ্বাস, পরিবেশের ভারসাম্য বিন্দুমাত্র নষ্ট না করে উন্নয়নের চাকা সচল রাখা হবে, যার সুফল স্থানীয় বাসিন্দারাও পাবেন।

এদিনের সফরে মন্ত্রী কেবল উন্নয়নের কথা বলেননি, বরং আগের সরকারের আমলে বন দফতরে নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন—এই তিন মূলমন্ত্রকে সামনে রেখেই বন দফতর পরিচালনা করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। মন্ত্রীর এই সফর উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে এক নতুন প্রাণসঞ্চার করবে এবং বেঙ্গল সাফারি আগামী দিনে দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসবে, এমনটাই আশা করছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।