এবার শিশুর হাত বাদ! তীব্র ক্ষোভের মুখে অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে দায়ের জোড়া মামলা

পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ও রাজ্যের রাজনীতিতে অল-ইন-ওয়ান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নিত্যনতুন বিতর্কের পারদ চড়েই চলেছে। কয়লা পাচার, গোরু পাচার, নিয়োগ দুর্নীতি এবং বালি-মাটি পাচারের মতো একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মামলার পর এবার সম্পূর্ণ নতুন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি নতুন এবং অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে একটি অভিযোগ ভুল চিকিৎসার কারণে এক শিশুর হাত বাদ যাওয়া সংক্রান্ত এবং অন্যটি সরকারি জমি থেকে মূল্যবান গাছ ও মাটি চুরির অভিযোগ।
সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ সামনে আসছিল। এর আগে সেবাশ্রয় ক্যাম্পে চিকিৎসার পর এক মহিলার পা বাদ চলে যাওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে রবীন্দ্রনগর থানায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের হয় এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরও তদন্তে নামে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ‘সেবাশ্রয়-২’ প্রকল্পকে ঘিরে এক নতুন ও হাড়হিম করা কেলেঙ্কারী প্রকাশ্যে এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় দায়ের করা একটি লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, পৈলানের মেগা স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসার পর স্থানীয় বোরহানপুরের তিন বছরের শিশু কৃতি মান্নার ডান হাত কেটে বাদ দিতে হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিরল ও জটিল রোগে আক্রান্ত ওই শিশুটির চিকিৎসার ক্ষেত্রে চরম গাফিলতি ও ভুল চিকিৎসার আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্তমানে ধৃত তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল এবং তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন-সহ মোট ছয় জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
অন্য দিকে, আইনি বিপাক এখানেই শেষ হচ্ছে না ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের। নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর আদালতেও তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি স্বতন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, সরকারি জমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি কাটা এবং মূল্যবান সরকারি গাছ চুরি করার পেছনে সরাসরি প্রভাবশালীদের মদত রয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, একের পর এক দুর্নীতিতে নাম জড়ানোর পর এই ধরণের অমানবিক ও বেআইনি ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে শাসক শিবির। এই জোড়া মামলার জেরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং তাঁর ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ ও আদালত এই বিষয়গুলোকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখে, এখন সেটাই দেখার।