ই২০ পেট্রল নিয়ে দুশ্চিন্তা? ইঞ্জিনের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে জানুন বিকল্প সমাধান ও জ্বালানির খুঁটিনাটি

পরিবেশ দূষণ কমাতে এবং জ্বালানি তেলের আমদানি খরচ হ্রাসের লক্ষ্যে দেশজুড়ে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত ‘ই২০’ পেট্রল ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। তবে এই নতুন ধরনের জ্বালানি গাড়িতে ব্যবহার করা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে দানা বেঁধেছে নানাবিধ সংশয়। ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়ার ভয় বা জ্বালানির গুণমান নিয়ে অনেকের মধ্যেই চিন্তার ভাঁজ। কিন্তু প্রযুক্তিগতভাবে সচেতন হলে এই ভয় অমূলক।
কেন এই ভয়? ইথানল একটি দ্রাবক (solvent) হিসেবে কাজ করে। ই২০ পেট্রল পুরনো মডেলের গাড়িতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনের রাবার বা প্লাস্টিকের পাইপ, সিল বা ফুয়েল সিস্টেমের ক্ষতি করতে পারে বলে অনেকের ধারণা। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ইঞ্জিনে জমাট বাঁধা বা পারফরম্যান্স কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সমাধান কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই যদি আপনার গাড়িটি ইথানল-ব্লেন্ডেড বা ‘ই২০ কমপ্লায়েন্ট’ (E20 Compliant) হয়। কিন্তু যদি আপনার গাড়ি পুরনো মডেলের হয়, তবে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখুন:
গাড়ির নথিপত্র যাচাই: আপনার গাড়ির মালিকানাপত্র বা ম্যানুয়াল বই দেখে নিন সেটি ই২০ পেট্রল ব্যবহারের উপযোগী কি না। অধিকাংশ নতুন গাড়ি (২০২২-২৩ সালের পরের মডেল) ই২০ জ্বালানি গ্রহণের উপযোগী করেই তৈরি করা হচ্ছে।
ফুয়েল সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ: পুরনো গাড়ির ক্ষেত্রে নিয়মিত ফুয়েল পাইপ এবং ফিল্টার পরীক্ষা করান। ইথানলের কারণে ইঞ্জিনে যেন কোনো কাদা বা আঠালো পদার্থ জমে না থাকে, সেজন্য ভালো মানের ‘ফুয়েল সিস্টেম ক্লিনার’ ব্যবহার করতে পারেন।
গাড়ি চালিয়ে রাখা: দীর্ঘদিনের জন্য গাড়ি ফেলে রাখবেন না। ইথানল মিশ্রিত পেট্রল দীর্ঘক্ষণ ট্যাঙ্কে পড়ে থাকলে তা আলাদা হয়ে যেতে পারে (phase separation)। তাই নিয়মিত গাড়ি ব্যবহার করা জরুরি।
ভালো মানের জ্বালানি: পেট্রল পাম্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। বিশ্বাসযোগ্য বড় পাম্পগুলো থেকে তেল ভরুন, যেখানে ভেজালের সম্ভাবনা কম।
খরচ কত? নতুন কোনো বাড়তি যন্ত্রাংশ লাগানোর প্রয়োজন সাধারণত নেই। তবে পুরনো গাড়ির ফুয়েল পাইপ বা সিল পরিবর্তন করতে হলে মডেল ভেদে ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে খরচ হতে পারে। এটি আপনার গাড়ির আয়ু এবং ইঞ্জিনের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে।
কোথায় পাবেন? বর্তমানে দেশের প্রায় সব সরকারি ও বেসরকারি পেট্রল পাম্পেই ই২০ পেট্রল পাওয়া যাচ্ছে। পাম্পের ডিসপেন্সিং মেশিনে ই২০ লেখা স্টিকার দেখে আপনি জ্বালানি নিশ্চিত করতে পারেন।
সচেতনতাই ই২০ পেট্রল ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনার গাড়ির সুরক্ষাকবচ। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে নিয়মিত সার্ভিসিং এবং সঠিক জ্বালানি বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।