বদলি নীতিতে বড় চমক নবান্নের: বন্ধ নিজের জেলায় পোস্টিং, জারি নতুন কড়া নির্দেশিকা

রাজ্যের প্রশাসনিক কাজে গতি আনা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদলি নীতিতে আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের তরফে সোমবার একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা রাজ্যের সরকারি কর্মীদের কর্মপদ্ধতিতে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।

কী কী পরিবর্তন এল? নবান্নের নতুন নির্দেশিকায় মূলত প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধান পরিবর্তনের বিষয়গুলো হলো:

  • নিজের জেলায় পোস্টিং বন্ধ: সাধারণ পরিস্থিতিতে ফিল্ড অফিসার বা কর্মীদের আর নিজের জেলায় পোস্টিং দেওয়া হবে না। তবে অবসরের আগের শেষ দু’বছর বিশেষ শর্তসাপেক্ষে নিজের জেলায় কাজ করার অনুমতি মিলতে পারে।

  • নির্দিষ্ট বদলির সময়সীমা: একই জায়গায় টানা তিন বছর চাকরির পর কর্মীর বদলির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই একজন আধিকারিক একই জায়গায় চার বছরের বেশি থাকতে পারবেন না। চার বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বদলি নিশ্চিত।

  • সংবেদনশীল বিভাগে কড়াকড়ি: রাজস্ব বা কর সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের ফিল্ড অফিসারদের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রে দু’বছর পূর্ণ হলেই বদলির কথা ভাবা হবে এবং তিন বছরের বেশি তাঁদের এক জায়গায় রাখা যাবে না।

উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট প্রশাসনের অন্দরের খবর, একই জায়গায় দীর্ঘসময় ধরে কাজ করার ফলে আধিকারিকরা যাতে কোনো অনৈতিক সুযোগসুবিধা বা প্রভাব খাটাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জনস্বার্থে এবং প্রশাসনিক স্বার্থেই এই নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর করা হচ্ছে।

ব্যতিক্রমের সুযোগ নতুন নিয়মে কর্মীদের সুবিধা-অসুবিধার দিকটিও নজরে রাখার কথা বলা হয়েছে। কোনো চরম ব্যক্তিগত অসুবিধা বা জরুরি প্রশাসনিক প্রয়োজনে নিয়ম কিছুটা শিথিল করার সুযোগ রয়েছে, তবে তার জন্য উপযুক্ত কারণ দর্শানো বাধ্যতামূলক।

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনের স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং দুনীতি রোধে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।