‘খালি গলাতেই বক্তৃতা দেব, প্রয়োজনে রিকশায় দাঁড়িয়েই লড়ব!’ একলা চলো নীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মে মাসের আগে পর্যন্ত যাঁর পাশে ছিল বিশাল রাজনৈতিক শক্তি, আজ সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চারপাশটা অনেকটাই ফাঁকা। গত দু’মাসে সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে ছায়াসঙ্গী—সবাই একে একে হাত ছেড়েছেন। তবে এই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন, শেষ বলে কিছু নেই। বরং নতুন করে ধ্বংসস্তূপ থেকেই তিনি সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
নতুন করে শুরুর আহ্বান: বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দেন তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস। তিনি বলেন, “১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের যাত্রা শুরু। ২০০৪ বা ১৯৯৬-এর মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আমি একা লড়াই শুরু করেছিলাম। ২০২৬-এও সেই ক্ষমতা আমার আছে।” দল ভাঙলেও তৃণমূলের নিচুতলার কর্মী এবং বুথ সভাপতিরাই তাঁর আসল শক্তি বলে দাবি করেন তিনি।
‘অনেক শিক্ষা হয়েছে’, তোপ দাগলেন বেইমানদের দিকে: দলত্যাগীদের উদ্দেশ্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, “আমি মানুষের কাছে ক্ষমা চাইছি। অনেক শিক্ষা হয়েছে আমার। যারা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তাদের অনেকেরই অনেক লুকনো ইতিহাস বা ‘লাগেজ-ব্যাগেজ’ আছে। অনেক অজানা সত্যি এখন বেরিয়ে আসছে।” নেত্রীর স্পষ্ট বার্তা, আদর্শ বিকিয়ে যারা চলে যাচ্ছেন, তারা আসলে নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত।
২১ জুলাইয়ের সভা নিয়ে কঠোর অবস্থান: ২১ জুলাইয়ের শহীদ স্মরণ সভা নিয়ে সংশয় কাটানোর বার্তা দিয়েছেন মমতা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ডেকরেটার্স সংস্থাকে ভয় দেখিয়ে সভা পণ্ড করার চেষ্টা হতে পারে। কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমোর সাফ কথা— “আমরা খালি গলাতেও বক্তৃতা দিতে পারি। প্রয়োজনে কোনো রিকশায় দাঁড়িয়েই মানুষের উদ্দেশ্যে বার্তা দেব। ২১ জুলাই সভা হবেই।”
মহীরুহের লড়াই: দলে এখন লোকসভার ৮ জন এবং রাজ্যসভার ১০ জন সাংসদ পাশে আছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “তিনটে জেনারেশন আমি তৈরি করেছি। আমি তাদের মাথার ওপর ছাতার মতো রয়েছি।” মমতা যেভাবে একা হাতে দলের হাল ধরার বার্তা দিচ্ছেন, তাতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে—তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন বাড়লেও, মমতাই যে এখনও তৃণমূলের প্রধান মুখ, তা আজ আবারও প্রমাণিত হলো।
আগামী ২১ জুলাইয়ের সভা এই মুহূর্তে বাংলার রাজনীতির ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।