কুডনকুলামে সাইবার হানা! ডার্ক ওয়েবে ফাঁস পরমাণু কেন্দ্রের গোপন নথি, কতটা ঝুঁকিতে দেশ?

দেশের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কুডনকুলামে সাইবার হানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে শোরগোল পড়ে গেছে। ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ (World Leaks) নামের একটি কুখ্যাত র‍্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা তামিলনাড়ুর এই পরমাণু কেন্দ্রের অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু নথি ও নকশা ডার্ক ওয়েবে ফাঁস করে দিয়েছে। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

ঠিক কী ফাঁস হয়েছে? রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া ফাইলের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন অংশের ব্লু-প্রিন্ট বা নকশা, যন্ত্রাংশের গুণগত মান পরীক্ষার রেকর্ড এবং বিভিন্ন সরবরাহকারী সংস্থার গোপন তথ্য। হ্যাকার গোষ্ঠীটি সাধারণত বড় বড় সংস্থার তথ্য চুরি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের জন্য পরিচিত।

কী বলছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন (NPCIL)? পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নেমেছে এনপিসিআইএল। সংস্থার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজেশ ভি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে তথ্যগুলো ফাঁস হয়েছে, সেগুলো মূলত বাহ্যিক সিস্টেম বা সাধারণ পরিষেবা সংক্রান্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “পরমাণু চুল্লির মূল সুরক্ষা (Nuclear Safety System) এবং ইন্টারনাল কন্ট্রোল কোডের সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই।”

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি থার্ড-পার্টি ডেটা সেন্টারে থাকা ঠিকাদার সংস্থার সার্ভার থেকে এই তথ্য চুরি হয়েছে। মূল পারমাণবিক সিস্টেম সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং বাইরের ইন্টারনেটের সাথে এর কোনো সংযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মত ও আতঙ্ক: পরমাণু সংস্থা বিষয়টি আশ্বস্ত করার সুরে বললেও, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। অতীতেও কুডনকুলামে সাইবার হানার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদিও চুল্লির মূল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সুরক্ষিত, তবুও এই ধরণের ব্লু-প্রিন্ট ফাঁস হওয়া একটি বড়সড় ‘সিকিউরিটি ল্যাপস’ বা নিরাপত্তা ত্রুটি। এর ফলে ভবিষ্যতে হ্যাকাররা কেন্দ্রের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে পারে।

সাধারণ মানুষের জন্য বার্তা: কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরমাণু কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক স্তরের এবং কঠোরভাবে সুরক্ষিত। তবুও এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর সাইবার সুরক্ষাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর দাবি উঠছে।

সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং সাইবার অপরাধীদের ধরার জন্য উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।