আতঙ্কের পারস্য উপসাগর! ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষায় মোদী সরকারের নতুন ‘অপারেশনাল ড্যাশবোর্ড’

হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আঁচ সরাসরি আছড়ে পড়ল ভারতীয় নাবিকদের ওপর। পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পতাকাবাহী দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার— ‘এমটি আল বাহিয়াহ’ এবং ‘এমটি মোম্বাসা’-তে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে নয়াদিল্লি। কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালের সভাপতিত্বে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ যুগান্তকারী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে ভারত সরকার।

কেন্দ্রের গৃহীত জরুরি পদক্ষেপসমূহ:
১. অপারেশনাল ড্যাশবোর্ড: পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগরে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজে ভারতীয় নাবিকদের অবস্থান রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করার জন্য একটি উন্নত ‘অপারেশনাল ড্যাশবোর্ড’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংকটকালে দ্রুত উদ্ধারকার্য চালানো সহজ হবে।
২. ডেডিকেটেড লিয়াজোঁ অফিসার: ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহায়তায় প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন করে নির্দিষ্ট লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ করা হবে। তাঁরা আহতদের চিকিৎসা, ক্ষতিপূরণ এবং নাবিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার সমস্ত নথিপত্রের দায়িত্ব সামলাবেন।
৩. আন্তর্জাতিক আঙিনায় কড়া প্রতিবাদ: অসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলার তীব্র নিন্দা করে ভারত সরকার আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (IMO) কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি—এই বার্তা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ভারত।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল শোক প্রকাশ করে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “অসামরিক জাহাজে কোনো ধরনের আক্রমণ ভারত সরকার বরদাস্ত করবে না। আমাদের নীতি সবসময়ই ‘নাবিকদের সুরক্ষা সবার আগে’। এই কঠিন সময়ে আক্রান্ত নাবিকদের পাশে দাঁড়াতে সরকার বদ্ধপরিকর।”

শুধু সরকারের উদ্যোগই নয়, জাহাজ সংস্থা ও নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপরেও কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় রাশ টানা হয়েছে। এখন থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন না করে কোনো ভারতীয় নাবিককে এই বিপজ্জনক জলসীমায় পাঠানো যাবে না। জাহাজের ক্যাপ্টেনের পক্ষ থেকে ওই অঞ্চলের ঝুঁকির চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরেই কেবল জাহাজ চলাচলের অনুমতি মিলবে। আন্তর্জাতিক জলপথে ভারতীয় নাবিকদের প্রাণ রক্ষায় ভারত যে কোনো আপস করতে রাজি নয়, তা আজকের এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ থেকেই স্পষ্ট।