বাঘিনীর শুটিংয়ে ২১ ঘণ্টার তাণ্ডব! ইন্ডাস্ট্রিজুড়ে ক্ষোভ, প্রশ্নের মুখে টলিপাড়ার কর্মসংস্কৃতি

টলিপাড়ায় শুটিংয়ের অমানবিক সময়সীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের লড়াই একসময় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে থিতু হয়েছিল। শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের স্বার্থে ফেডারেশনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—কোনও অবস্থাতেই দিনে ১৪ ঘণ্টার বেশি শুটিং করা যাবে না। কিন্তু বর্তমানে টলিপাড়ার অস্থির পরিস্থিতি ও ফেডারেশনের নেতৃত্বহীনতায় সেই নিয়ম এখন কার্যত কাগজেই সীমাবদ্ধ। অভিযোগ, নিয়মের তোয়াক্কা না করে একাধিক প্রযোজনা সংস্থায় ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত সময় কাজ করানো হচ্ছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ফেডারেশনের বর্তমান অবস্থার কারণে। গত ডিসেম্বর মাসে স্বরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগের পর টলিপাড়ার অভিভাবকহীনতা শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এরই মধ্যে সামনে এসেছে জি বাংলার আসন্ন ধারাবাহিক ‘বাঘিনী’-র প্রোমো শুটিংকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, Raja Chanda Films-এর ব্যানারে আয়োজিত এই শুটিং গত ১৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে শেষ হয়েছে পরদিন ভোর ৬টায়। অর্থাৎ, টানা ২১ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন টেকনিশিয়ানরা।
এই ঘটনার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টেকনিশিয়ান আক্ষেপ করে বলেন, “সরকার বলছে ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’, কিন্তু আমাদের কাজের ক্ষেত্রে ভরসার জায়গাটা কোথায়? এর আগে ১৪ ঘণ্টার নিয়ম নিয়ে অনেক লড়াই হয়েছে, কিন্তু ২১ ঘণ্টা কাজ করানোর নজির আমরা আগে কখনও দেখিনি। শরীর খারাপ হলে তার দায় কে নেবে?” শুধু জি বাংলার এই ধারাবাহিক নয়, মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুণ্ডুর মতো অনেকেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে, কিছু প্রযোজক ১৪ ঘণ্টার সীমারেখাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন।
পরিচালক রাজা চন্দের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্তমানে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। এই দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে শিল্পী ও কলাকুশলীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সচেতন মহল। টলিপাড়ায় যেখানে নিয়ম পাহারার জন্য ফেডারেশন ও গিল্ডের মতো শক্তিশালী সংস্থা রয়েছে, সেখানে নেতৃত্বহীনতার সুযোগে এই ধরনের অমানবিক কর্মসংস্কৃতি কীভাবে প্রশ্রয় পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
প্রশ্ন উঠছে, যে ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়ম ভাঙার বিরুদ্ধে একসময় কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, সেখানে আজ ২১ ঘণ্টার মতো অমানবিক শিফটের দায় নেবে কে? এই পরিস্থিতিতে শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার—এই প্রশ্ন এখন টলিপাড়ার অলিতে-গলিতে ঘুরছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নতুন করে নিয়মের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এই ‘শোষণ’ বন্ধ হওয়া কঠিন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।