নৌবাহিনীতে বড় চমক! ১ লাখ কোটির মেগা প্রকল্পে তৈরি হবে ভারতের ভবিষ্যৎ যুদ্ধজাহাজ

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ভারত তার নৌ-ক্ষমতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চলেছে। ভারতীয় নৌবাহিনী প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের তিনটি বিশাল দেশীয় যুদ্ধজাহাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ‘১৫সি’ ডেস্ট্রয়ার, ‘১৭বি’ ফ্রিগেট এবং ‘১৮এ’ নেক্সট-জেনারেশন লার্জ সারফেস কমব্যাট্যান্ট—এই তিনটি মেগা প্রকল্প ভারতের ভবিষ্যৎ সারফেস ফ্লিট বা নৌবাহিনীর পৃষ্ঠতলীয় যুদ্ধজাহাজ বহরের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের আগে এই প্রকল্পগুলো নিয়ে বর্তমানে একাধিক দফায় অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে।
সবচেয়ে বড় ও প্রধান প্রকল্প হলো ‘প্রজেক্ট ১৫সি’। এই উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি অত্যাধুনিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জানা গেছে, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক একটি ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল’ (RFP) জারি করবে। এই জলযানগুলোতে কলকাতা ও বিশাখাপত্তনম-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারের সক্ষমতার পাশাপাশি উন্নত সেন্সর, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র এবং অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম যুক্ত করা হবে। আরএফপি জারির তিন বছর পর থেকে এগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হবে।
দ্বিতীয় প্রকল্পটি হলো ‘প্রজেক্ট ১৭বি’। প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি অত্যাধুনিক স্টিলথ ফ্রিগেট তৈরির পরিকল্পনা করেছে নৌবাহিনী। বর্তমানে পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL) এবং গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) প্রতিটি সংস্থা তিনটি করে এই ফ্রিগেট নির্মাণ করবে। ১৮ মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের আরএফপি জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ছাড়পত্র পাওয়ার চার বছর পর থেকে মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে।
সবশেষে রয়েছে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প—‘প্রজেক্ট ১৮এ’। নৌবাহিনী ১৪,০০০ থেকে ১৫,০০০ টন ওজনের ছয়টি যুদ্ধজাহাজ তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা ভারতে নির্মিত এ পর্যন্ত সর্ববৃহৎ যুদ্ধজাহাজ হতে চলেছে। এই জাহাজগুলো দীর্ঘ পাল্লার অভিযানে এবং অত্যাধুনিক কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম হবে। বর্তমানে এটি প্রাথমিক পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে এর প্রস্তাবনা পেশ করা হতে পারে, তবে প্ল্যাটফর্মের জটিলতার কারণে এর নির্মাণকাজ শুরু হতে প্রায় আট বছর সময় লাগতে পারে।
ভারতের নৌবাহিনীর এই বিশাল বিনিয়োগ কেবল দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করবে না, বরং সমুদ্রসীমায় ভারতের আধিপত্যকে আরও সুদৃঢ় করবে। এই জাহাজগুলো নির্মিত হলে তা ভারতীয় নৌবাহিনীকে বিশ্বমানের সারফেস কমব্যাট্যান্ট হিসেবে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করবে।