সাশ্রয়ী অস্ত্রের জাদুতে আকাশপথে বাজিমাত, ড্রোন ধ্বংসের নয়া কৌশল রাফালের

বিশ্বজুড়ে রাফাল যুদ্ধবিমানের জয়জয়কার অব্যাহত। তবে এবার কেবল নিখুঁত লক্ষ্যভেদ নয়, আকাশপথে ড্রোন দমনে রাফালকে ঢেলে সাজাচ্ছে ফ্রান্স। ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহকারী সংস্থা—’ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ আর্মামেন্টস’ (DGA) ঘোষণা করেছে যে, রাফাল যুদ্ধবিমানে এখন সফলভাবে ৬৮ মিমি লেজার-গাইডেড রকেট যুক্ত করা হয়েছে। এই যুগান্তকারী পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়েছে গত ফেব্রুয়ারি মাসে, যার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে ড্রোন ধ্বংসের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
এই বিশেষ কর্মসূচিটিকে বলা হচ্ছে ‘লুট অ্যান্টি-ড্রোন সুর এভিয়ন ডি কমব্যাট’ বা সংক্ষেপে LADAC। ডাসল্ট এভিয়েশন এবং থ্যালেস গ্রুপের সহায়তায় ফরাসি বিমান ও মহাকাশ বাহিনীর বিশেষজ্ঞরা এই জটিল প্রযুক্তিগত সংযোজন সম্পন্ন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর আকাশপথে ড্রোনের হুমকি মোকাবিলা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ। ইরানের তৈরি ‘শহেদ-১৩৬’ বা রাশিয়ার ‘গেরান’ ড্রোনগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক। এগুলোর মোকাবিলায় রাফাল এখন অনেক বেশি শক্তিশালী।
তবে এই নতুন কৌশলের পেছনে রয়েছে একটি বিশাল অর্থনৈতিক যুক্তি। ফরাসি বিমান ও মহাকাশ বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জেনারেল জেরোম বেলাঞ্জার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কয়েক হাজার ডলার মূল্যের ড্রোন ধ্বংস করতে দশ লক্ষ ইউরো মূল্যের ‘মাইকা’ (MICA) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয় করা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সামরিক কৌশলের দিক থেকে এটি দীর্ঘমেয়াদী টেকসই সমাধান নয়। তাই রাফালের জন্য এমন সাশ্রয়ী ও কার্যকর অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল, যা শত্রুর ড্রোনকে সহজে আকাশেই ভূপাতিত করতে সক্ষম। এই লেজার-গাইডেড রকেট সেই অভাব পূরণ করেছে।
ভারতের প্রেক্ষাপটে এই খবরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় বিমান বাহিনী ইতিমধ্যেই রাফালের সক্ষমতায় পূর্ণ আস্থা রেখেছে। জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি ভারত সরকার আরও ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিশাল অনুমোদন দিয়েছে। ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার এই চুক্তির অধীনে ১৮টি বিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে আসবে এবং ৯৬টি বিমান ভারতের মাটিতেই তৈরি হবে। যেখানে ৬০ শতাংশ যন্ত্রাংশ হবে দেশীয়। এর ফলে ভারতের আকাশসীমা সুরক্ষিত হবে এবং শত্রুর যেকোনো ড্রোন হামলা রুখে দেওয়ার ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাফালের এই নতুন রূপ ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।