রক্ষাকবচ কি থাকবে? হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে শেষ পর্যন্ত আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

কয়েকবার হাজিরা এড়ানোর পর অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে বিধাননগর আদালতে পৌঁছালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বেলা ১১টা নাগাদ কালীঘাটের বাসভবন থেকে রওনা হয়ে ১১টা ৪৯ মিনিটে তিনি বিধাননগর আদালত চত্বরে পৌঁছান। তাঁর ৪ গাড়ির কনভয় আদালত চত্বরে প্রবেশ করার সময় নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদালত চত্বরে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় গোটা এলাকা। পুলিশ, র‍্যাফ এবং আধাসেনার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা বলয়। অতীতে সোনারপুর ভ্রমণের সময় অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে এবং কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, তার জন্য প্রশাসনের তরফে সবরকম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। সকালে কালীঘাটের বাড়িতে আইনজীবীদের উপস্থিতি এবং প্রস্তুতির ছবি দেখে স্পষ্ট বোঝা গিয়েছিল যে, এদিন আদালতের নির্দেশ পালন করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

স্মরণীয় যে, এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে ‘ডিজে-মন্তব্য’ সংক্রান্ত মামলায় পরপর দুবার কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে না আসায় তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল অভিষেককে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, “সবকিছুরই একটা সীমা আছে।” পাশাপাশি তদন্তে অসহযোগিতা করলে তাঁর পাওয়া আইনি রক্ষাকবচ কেড়ে নেওয়ার এবং দৃষ্টান্তমূলক আর্থিক জরিমানার কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল হাইকোর্ট। বিচারপতির সেই কড়া বার্তার পরই এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে হাজিরা দিলেন।

অন্যদিকে, এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপও কম নয়। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, “কে কোথায় হাজিরা দিচ্ছে, কে খাটের তলায় লুকিয়ে পড়ছে—এসব নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। মানুষ এখন উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে আছে।” শমীকের মতে, রাজ্যবাসী কসমেটিক পরিবর্তন চায় না, তারা চায় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান। তিনি আরও যোগ করেন, সারা ভারত এগিয়ে গেলেও এই রাজ্য পিছিয়ে রয়েছে, তাই এসব আইনি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সময় নষ্ট করতে তাঁরা আগ্রহী নন।

আইনি পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের নির্দেশের পর এই কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার বিষয়টি তদন্তের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তে কতটা সহযোগিতা করেন এবং পরবর্তীতে বিচারপতির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর সকলের।