রাম মন্দিরের অনুদান তছরুপের রিপোর্ট পেশ সিট-এর, কাঠগড়ায় ট্রাস্টের প্রভাবশালী সদস্য!

অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের বহুচর্চিত অনুদান তছরুপ মামলায় এবার এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় সামনে এল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে জমা দিতে চলেছে। কোটি কোটি মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের প্রতীক এই মন্দিরের তহবিল তছরুপের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সুপ্রিম কোর্টের আঙিনাতেও।

সূত্রের খবর, সিট-এর চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টে ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ট্রাস্টের শীর্ষপদে থেকে সঠিক নজরদারি ও তদারকির ক্ষেত্রে তাঁর চরম উদাসীনতা ছিল। ওঁর নাকের ডগায় ঘটে যাওয়া এই অনিয়ম রুখতে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, ট্রাস্টের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য ডঃ অনিল মিশ্রের ভূমিকা এই আর্থিক অনিয়মের পেছনে অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করেছে তদন্তকারী দল। এই বেনিয়ম ও গাফিলতির জন্য তাঁকেই সরাসরি দায়ী করা হয়েছে।

তহবিলের এই কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর থেকেই বিরোধী দলগুলোর প্রবল আক্রমণের মুখে পড়েছিল ট্রাস্ট। পরিস্থিতি এমন জটিল হয় যে, সুপ্রিম কোর্টকে এই মামলায় হস্তক্ষেপ করতে হয়। সম্প্রতি শীর্ষ আদালত সিট-কে মামলার স্ট্যাটাস রিপোর্ট এবং ট্রাস্টকে নোটিস পাঠিয়ে কড়া মনোভাব প্রদর্শন করেছে।

শুধু ব্যক্তিবিশেষের শাস্তিতেই থেমে থাকতে চায় না সিট। এই বিশাল কেলেঙ্কারির পুনরাবৃত্তি রুখতে তারা ট্রাস্টের প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় আমূল সংস্কারের সুপারিশ করেছে। সিট-এর উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে:

থার্ড পার্টি অডিট: স্বচ্ছতা বজায় রাখতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে নিয়মিত আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা।

স্বচ্ছ নিয়োগ: স্বজনপোষণ বন্ধ করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।

স্টাফ রোটেশন: টাকা গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নিয়মিত বিভাগ বদল বা রোটেশন, যাতে আঁতাত তৈরির সুযোগ না থাকে।

কঠোর এসওপি (SOP) পালন: অতীতে যে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা নিয়মাবলী উপেক্ষা করা হয়েছিল, তা কঠোরভাবে কার্যকর করা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছিল যে, ভক্তদের নগদ অনুদানের হিসাবে বড় গরমিল ছিল। ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ নজরদারিতেই প্রথম বিষয়টি ধরা পড়ে এবং এরপর অযোধ্যা থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। পুলিশি তদন্তে রমাশঙ্কর যাদব, অনুকূল মিশ্রসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা গেলেও, ট্রাস্টের অনুমান অনুযায়ী তছরুপের মোট পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি টাকা। মন্দিরের পাবলিক ডোনেশন বা অনুদান সংগ্রহের এই পবিত্র ব্যবস্থায় এমন জালিয়াতি ভক্তদের মনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, সিট-এর এই চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে যোগী সরকার এবং সুপ্রিম কোর্ট কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।