আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা, ককপিট ভয়েস রেকর্ডিং প্রকাশে কেন নারাজ সরকার?

আহমেদাবাদে গত বছর ঘটা এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB) সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা দাখিল করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ওই দুর্ঘটনার ককপিট ভয়েস রেকর্ডিং (CVR) এবং অন্যান্য অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রমাণ কোনোভাবেই জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ব্যুরোর এই সিদ্ধান্তে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করলেও, আইনি বিধিনিষেধকেই প্রধান ঢাল করেছে কর্তৃপক্ষ।
নিহত পাইলটের বাবা পুষ্কর রাজ সভারওয়ালের দায়ের করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে এই হলফনামাটি জমা দেয় AAIB। হলফনামায় সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতের প্রচলিত আইন অনুযায়ী CVR-এর অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ করা আইনত নিষিদ্ধ। শুধু অডিও নয়, ফ্লাইটের ফুটেজ, ক্রু সদস্যদের জবানবন্দি, অভিযান-সম্পর্কিত কথোপকথন এবং মৃতদের ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা দেশের স্বার্থে এবং তদন্তের শুদ্ধতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।
তদন্তকারী ব্যুরোর দাবি, দুর্ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। আর সেই প্রক্রিয়ার স্বার্থেই আইনি বিধিনিষেধগুলো মেনে চলা বাধ্যতামূলক। তাদের মতে, সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
তদন্তের আইনি কাঠামো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে AAIB ‘পরিশিষ্ট ১৩’ এবং ‘বিমান (দুর্ঘটনা ও ঘটনার তদন্ত) বিধিমালা, ২০২৫’-এর উল্লেখ করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, যে দেশে দুর্ঘটনা ঘটে, সেই রাষ্ট্র দুর্ঘটনার পরিস্থিতি সম্পর্কে তদন্ত শুরু করতে বাধ্য। নিয়মাবলির অনুচ্ছেদ ২৬ অনুযায়ী, এই তদন্ত কেবল একটি স্থানীয় বা পৌর পদক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি-নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া।
তদন্ত প্রক্রিয়ায় সেই সব দেশের অংশগ্রহণ থাকে যাদের সঙ্গে বিমান, চালক, বিমানের নকশা বা উৎপাদনের আইনগত সংযোগ রয়েছে। এই রাষ্ট্রগুলোর স্বীকৃত প্রতিনিধি এবং প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের তদন্ত প্রক্রিয়ায় সুনির্দিষ্ট অধিকার ও দায়িত্ব থাকে। ফলে, তথ্য প্রকাশ বা গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি শুধুমাত্র ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের প্রোটোকল দ্বারাও নিয়ন্ত্রিত।
এই সিদ্ধান্তের ফলে শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হলেও, বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং সরকারি আইনজীবীরা একে একটি আন্তর্জাতিক প্রোটোকলের অংশ হিসেবেই দেখছেন। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে এই গোপনীয়তার যুক্তি কতখানি ধোপে টেকে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে দেশের বিমান চলাচল মহল।