সাবধান! মেয়াদোত্তীর্ণ ম্যাগি বিক্রি করে বিপাকে বিশাল মেগা মার্ট, গুণতে হলো প্রায় ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা

খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নের মুখে খ্যাতনামা খুচরো বিপণন সংস্থা ‘বিশাল মেগা মার্ট’। মেয়াদোত্তীর্ণ ম্যাগি আটা ইনস্ট্যান্ট নুডলস বিক্রির অভিযোগে অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন ওই সংস্থার বিরুদ্ধে ২.৮ লক্ষ টাকার বিশাল অঙ্কের জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনের এই কঠোর রায় খুচরো বিপণন সংস্থাগুলির গাফিলতির বিরুদ্ধে একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২০ মার্চ। কুর্নুলের ইয়েম্মিগানুরের বাসিন্দা পি. শ্রবণ কুমার ওই দিন বিশাল মেগা মার্টের একটি আউটলেট থেকে দুটি ম্যাগি আটা ইনস্ট্যান্ট নুডলস কিনেছিলেন। সেদিন রাতেই একটি প্যাকেট রান্না করে খাওয়ার পর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। তীব্র পেটব্যথা, জ্বর ও বমি নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, এটি স্পষ্টতই ‘ফুড পয়জনিং’-এর ঘটনা।

হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফেরার পর, শ্রবণ কুমার দ্বিতীয় প্যাকেটটি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন। অবাক হয়ে দেখেন, ওই প্যাকেটের মেয়াদ ১৮ মার্চ ২০২৫ তারিখেই শেষ হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, পণ্যটি বিক্রি করার সময় তার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। এরপর তিনি সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠালেও কোনো সদুত্তর পাননি। কোনো উপায়ান্তর না দেখে তিনি কুর্নুল জেলা ভোক্তা আদালতে দ্বারস্থ হন।

মামলার শুনানিতে বিশাল মেগা মার্টের তরফে কোনো প্রতিনিধি আদালতে হাজির হননি। ফলে কমিশন একতরফাভাবে শুনানি চালিয়ে রায় ঘোষণা করে। অভিযোগকারীর জমা দেওয়া ক্যাশ মেমো, ডিজিটাল পেমেন্টের প্রমাণ, মেয়াদোত্তীর্ণ প্যাকেটের ছবি এবং হাসপাতালের মেডিকেল রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর কমিশন জানায়, সংস্থার গাফিলতি সন্দেহাতীত।

রায়ে কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, সংস্থাটিকে অভিযোগকারী ক্রেতাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৫,০০০ টাকা এবং মামলা পরিচালনার খরচ হিসেবে ৫,০০০ টাকা প্রদান করতে হবে। এছাড়া জনস্বার্থের খাতিরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ২.৫ লক্ষ টাকা অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে (CM Relief Fund) জমা দিতে হবে। সব মিলিয়ে সংস্থার ওপর আর্থিক দায়ভার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৮ লক্ষ টাকা। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় বকেয়া টাকার ওপর বার্ষিক ৯ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে সংস্থাকে।

ভোক্তা আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রি কোনো সাধারণ ভুল নয়, এটি ভোক্তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের সাথে আপস করার কোনো অধিকার বিপণন সংস্থাগুলোর নেই। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত প্রমাণ করে দিল, সাধারণ ক্রেতার অধিকার সুরক্ষায় আইন সর্বদা তৎপর।