এনডিএ-র দিকে শরদ পওয়ার? আসন পুনর্বিন্যাস বিল ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা!

জাতীয় রাজনীতির আঙিনায় ফের একবার বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। শাসক ও বিরোধী শিবিরের সমীকরণে কার্যত ভূমিকম্পের আভাস দিয়ে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে শরদ পওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (NCP)। আসন্ন সংসদের বাদল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের আনা ‘আসন পুনর্বিন্যাস’ (Delimitation) বিলের ওপর শরদ পওয়ারের দল কী অবস্থান নেয়, তা নিয়েই এখন সরগরম দিল্লির অলিন্দ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এই বিলের সমর্থনে সরকার পক্ষের হাত ধরতে পারে এনসিপি, যা কার্যত বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের দিকে পওয়ারের ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের সঙ্গে এনসিপির দুই শিবিরের শীর্ষ নেতাদের গোপন বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই। রাজনৈতিক মহলের অন্দরে গুঞ্জন, তবে কি দীর্ঘদিনের বিবাদ মিটিয়ে ফের এক হতে চলেছে এনসিপির দুই শিবির? আর সেই পথ ধরেই কি এনডিএ জোটে যোগ দিচ্ছে পওয়ারের দল? এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরমের মন্তব্যে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সরাসরি দাবি করেছেন যে, কেন্দ্র সরকার এই বিতর্কিত বিলটি পাশ করানোর জন্য শরদ পওয়ার ও ডিএমকে-র সমর্থন আদায়ের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এনসিপি-কে এই বিলের বিরোধিতা করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
তবে এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন এনসিপির ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট সুপ্রিয়া সুলে। শরদ পওয়ার ও দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুপ্রিয়া সাফ জানিয়েছেন, এই ধরনের আলোচনা একেবারেই ভিত্তিহীন এবং তা নিছক ‘চায়ের কাপের ঝড়’। তিনি বলেন, “এখনও বিলের খসড়া আমাদের হাতে আসেনি। তবে আমরা নীতিগতভাবে যেকোনো গঠনমূলক প্রস্তাবের সমর্থক। যদি সরকার সব রাজ্যে আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করে এবং তা কার্যকরের একটি স্বচ্ছ ও স্পষ্ট রূপরেখা পেশ করে, তবেই আমরা বিলটির স্বপক্ষে বিবেচনা করব।”
উল্লেখ্য, লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভার আসন সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে কেন্দ্র ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল আনার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত সমর্থনের অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার ফের সেই বিলে সংশোধনী এনে নতুন করে পেশের তোড়জোড় চলছে। আর সেই বিল পাশ করাতে এনসিপি-র সমর্থন এখন শাসকদলের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এনসিপি সুপ্রিয়া সুলের মাধ্যমে বল এখন সরকারের কোর্টে ঠেলে দিয়েছে। বিল হাতে পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি তাদের চূড়ান্ত অবস্থান জানাবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
এখন দেখার বিষয়, শরদ পওয়ার কি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র পাশে থেকে কেন্দ্রের বিরোধিতা করবেন, নাকি আসন পুনর্বিন্যাসের মতো জাতীয় ইস্যুতে সরকারকেই সমর্থন করবেন? পওয়ারের প্রতিটি পদক্ষেপই এখন মহারাষ্ট্র তথা জাতীয় রাজনীতির আগামী দিনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তবে এনসিপি-র এই দ্বিধাবিভক্ত অবস্থান যে বিজেপি বিরোধী জোটে অস্বস্তি বাড়াল, তা বলাই বাহুল্য।