“নাগরিকত্বের প্রমাণ নয় পাসপোর্ট,” সরকারি ঘোষণায় কোন নথিতে মিলবে ভারতীয় হওয়ার স্বীকৃতি?

পাসপোর্ট আছে মানেই আপনি ভারতের বৈধ নাগরিক—এই ধারণা এবার সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিল কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক। সপ্তাহ তিনেক আগে পাসপোর্ট বিভাগের আধিকারিকদের দেওয়া ইঙ্গিতের পর, এবার বিদেশ মন্ত্রক আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিল যে, পাসপোর্ট নাগরিকত্বের কোনো চূড়ান্ত প্রমাণপত্র নয়। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেছেন, ১৯৬৭ সালের পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট শুধুমাত্র একটি ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি। এই ঘোষণা ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাসপোর্ট ইস্যু করার মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশগামী মানুষের সংখ্যা এবং তাঁদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা। প্রতিদিন কতজন মানুষ দেশ ছাড়ছেন এবং কতজন বিদেশ থেকে ফিরছেন, সেই তথ্য সরকারের কাছে থাকা প্রয়োজন। দেশে বর্তমানে মাত্র ৮ শতাংশ নাগরিকের পাসপোর্ট রয়েছে। ফলে এই নথিকে কখনোই নাগরিকত্বের মাপকাঠি হিসেবে দেখা উচিত নয়।”

এই ঘোষণার পরই সাধারণ মানুষের মনে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—তাহলে ভারতের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে সরকার কোন নথিকে একশো শতাংশ খাঁটি বলে গ্রহণ করবে? আধার কার্ড বা রেশন কার্ড তো ভোটার তালিকার সংশোধনে ব্যবহৃত হয়, তবে কি সেগুলোতেও নাগরিকত্বের পুরোপুরি নিশ্চয়তা নেই? সরকারি মহলে এই প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আধিকারিকদের মতে, কোনো একটি নির্দিষ্ট নথিকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। সরকার একাধিক নথিপত্রের তথ্যাদি যাচাই করে তবেই নাগরিকত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার সংশোধনীতে আধার ও রেশন কার্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সরকারি কর্তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, নাগরিকত্ব আইন একাধিকবার সংশোধিত হয়েছে। ফলে দেশের সব মানুষের নাগরিকত্ব প্রমাণের মানদণ্ড কখনোই এক হতে পারে না। এই অস্পষ্টতা সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করেছে। ভোটার কার্ড, আধার বা রেশন কার্ড থাকা সত্ত্বেও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা নিয়ে এই ধোঁয়াশা সাধারণ মানুষকে এক জটিল আইনি বেড়াজালে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।