অন্নপূর্ণা প্রকল্পের ৩০০০ টাকা চুরি! প্রতিবাদ করায় উপভোক্তাকে রাস্তায় ফেলে মারধর, মালদায় চাঞ্চল্য

মালদার চাঁচল থানার ভেবা এলাকায় অন্নপূর্ণা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এল। সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তার টাকা তাঁর অজান্তেই তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক সিএসপি (CSP) কর্মীর বিরুদ্ধে। এই জালিয়াতি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হলো এক সাধারণ গৃহবধূকে। অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার।

ভুক্তভোগী উপভোক্তা মর্জিনা বিবির অভিযোগ, তিনি তাঁর মোবাইলে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের ৩০০০ টাকা অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার মেসেজ পেয়েছিলেন। সেই টাকা তুলতে তিনি স্থানীয় সিএসপি সেন্টারে যান। কিন্তু সেখানে কর্মরত রানু চৌধুরী তাঁকে সাফ জানিয়ে দেন যে, তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনো টাকাই আসেনি। মর্জিনা বিবি বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে, পরে ব্যাংকের স্টেটমেন্ট বের করে দেখা যায়, তাঁর আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) ব্যবহার করেই সেই ৩০০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। মর্জিনা বিবির দাবি, তিনি নিজে কোনো টাকা তোলেননি। এই জালিয়াতি ধরে ফেলায় যখন তিনি অভিযুক্ত কর্মীর কাছে কৈফিয়ত চান, তখন তাঁকে প্রকাশ্য রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। বর্তমানে আহত ওই গৃহবধূ চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে, অন্নপূর্ণা প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে বড় আপডেট দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত উপভোক্তা এখনও আবেদন করতে পারেননি বা আবেদনের তথ্যে কোনো ভুল রয়েছে, তাঁরা আগস্ট মাস পর্যন্ত তা সংশোধন করার সুযোগ পাবেন। রাজ্য সরকার স্পষ্ট করেছে, প্রত্যেক যোগ্য আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রকল্পের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে জোর দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ স্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ভেরিফিকেশন শেষ করতে হবে এবং ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত তথ্য পোর্টালে আপলোড করতে হবে। ফলে, আগামী কাল থেকেই অনেক উপভোক্তার স্ট্যাটাস বদলে যেতে পারে। অনেকের আবেদনের স্ট্যাটাস বর্তমানে ‘Under Enquiry’ দেখাচ্ছে, যা ১৫ জুলাইয়ের পর পরিবর্তিত হয়ে ‘Approved’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অন্নপূর্ণা প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। ইতিমধ্যে প্রথম দুই কিস্তির টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে। তৃতীয় কিস্তির টাকা প্রদানের আগে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে। জালিয়াতি রুখতে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে টাকা পৌঁছে দিতে সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে অনুরোধ, কোনো সন্দেহজনক লেনদেন হলে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে যোগাযোগ করুন এবং প্রয়োজনে পুলিশের দ্বারস্থ হোন।