দুর্নীতি করলে কাউকে রেয়াত নয়! ‘সেবাশ্রয়’ বিতর্ক নিয়ে বিস্ফোরক মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

দুর্নীতি করলে তার সাজা হবেই, কাউকে রেয়াত করা হবে না। পুলিশের ওপর আস্থা রেখে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ফের একবার কড়া বার্তা দিলেন দুর্নীতিগ্রস্তদের উদ্দেশ্যে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে যে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে আসছে, তা নিয়ে সরব হলেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রশাসনের হাত থেকে কেউ রেহাই পাবে না।
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকারি প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, সরকারি অর্থ ও প্রকল্পের অপব্যবহার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সেবাশ্রয় প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী রাজনৈতিক মহল থেকে তোলা হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রশাসন ইতিমধ্যে এ বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে। পুলিশের তদন্তে কোনো খামতি রাখা হবে না, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই সত্য উদ্ঘাটন করা হবে।
শুধু সেবাসশ্রয় নয়, মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের অন্দরেই দীর্ঘদিন ধরে একটি ‘থ্রেট কালচার’ বা ভয় দেখানোর সংস্কৃতির চর্চা চলে আসছে। যে দল নিজেদের স্বচ্ছতার দাবি করে, তাদের অন্দরের এই অন্ধকার দিকের কথা এখন সাধারণ মানুষের কাছে একে একে সামনে আসছে। মন্ত্রী আরও বলেন, দলের নিচুতলার কর্মী থেকে শুরু করে যারা এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই লড়াইয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য একদিকে যেমন প্রশাসনিক কঠোরতার পরিচয় দেয়, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার এক কৌশলগত পদক্ষেপ। আগামী দিনে এই তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং সেবাশ্রয় প্রকল্পের সাথে যুক্ত প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে আদৌ কোনো বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা। মন্ত্রী বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে কেউ যেন বিশ্বাসঘাতকতা না করে। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই পুলিশ ছাড়বে না, তা সে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন। সরকারি কোষাগারের অপচয় ও প্রকল্পের নামে লুঠ রুখতে বদ্ধপরিকর রাজ্য প্রশাসন।