আবাস যোজনায় বড় জয়! কেন্দ্র দিল ১ লক্ষ বাড়ির অনুমোদন, নবান্নে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

নবান্নে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে এক অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠকে মিলিত হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর রাজ্যবাসীর জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করলেন তিনি। আবাস যোজনা থেকে শুরু করে গ্রামীণ পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থান—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় ও রাজ্য সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যের একাধিক জনকল্যাণমুখী প্রকল্প নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে আবাস যোজনার ক্ষেত্রে বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, উপভোক্তাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হওয়ার আগেই কেন্দ্র ১ লক্ষ পাকা বাড়ি তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আবাস যোজনা নিয়ে রাজ্যের মানুষের মধ্যে যে প্রত্যাশা ছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে তা দ্রুত পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র মানুষ দ্রুত পাকা বাড়ির সুবিধা পাবেন, যা এই প্রকল্পের কাজের গতিকে অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে।
গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে এদিন এক হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে। ‘গ্রাম সড়ক যোজনা’ প্রকল্পের আওতায় এই বিপুল অর্থ ব্যয় করা হবে রাস্তা নির্মাণ ও উন্নয়নের কাজে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রত্যন্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়ন হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।” উন্নত রাস্তাঘাট কেবল যাতায়াতের সুবিধাই নয়, গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ডকেও মজবুত করবে বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন।
কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে মুখ্যমন্ত্রী ‘১২৫ দিনের কাজ’ প্রকল্পের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের ২ লক্ষ মানুষকে সরাসরি কাজের সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। মূলত গ্রামীণ এলাকার মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান তৈরি করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। বিশেষ করে কৃষিকাজের বাইরে থাকা সময়ে এই প্রকল্প গ্রামীণ পরিবারগুলোকে আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করবে।
কৃষি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে রাজ্য সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলোতে নতুন করে ‘ধনধান্য’ প্রকল্প চালু করা হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের সার্বিক আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি রূপায়ণ করা হচ্ছে। কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নে এই ধরনের বিশেষ প্রকল্পের ফলে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের সঙ্গে এই বৈঠক রাজ্যের পরিকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।