নির্বাসনের দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান! তসলিমা নাসরিনের ঘরে ফেরার পথে কি বাধা কাটল?

বহু বছরের দীর্ঘ নির্বাসন, অগণিত অভিমান আর বারবার দেশে ফেরার আকুল আকাঙ্ক্ষা—সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বদেশের মাটি স্পর্শ করার পথে প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বহু বছর আগে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে তসলিমাকে বাধ্য হয়ে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল। সেই থেকে সুদূর প্রবাসে একাকী দিন কাটলেও, বাঙালির আবেগ আর কলকাতার প্রতি তাঁর টান কোনোদিন কমেনি। বারবার তাঁর কলম ও সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় উঠে এসেছে সেই ‘ফিরে আসার’ আর্তি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সেই আর্তি যেন বাস্তব রূপ নিতে চলেছে।

রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের পরেই তসলিমাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পক্ষে সরব হয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সেই আহ্বান রাজনৈতিক মহলে যেমন সাড়া ফেলেছিল, তেমনই তৈরি করেছিল নতুন জল্পনা। আর সেই জল্পনাকে সত্যি প্রমাণ করেই এবার তসলিমা নাসরিনের নিজের ফেসবুক পোস্ট এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। তিনি নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন, যা স্পষ্ট করে দেয়—তিনি এখন সত্যিই ফেরার অপেক্ষায়।

কলকাতা ছাড়ার পর থেকেই তসলিমা বারবার আক্ষেপ করে লিখেছেন, কীভাবে তাঁকে তাঁর প্রিয় শহর থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতৃত্বের ইতিবাচক অবস্থান তাঁকে এক নতুন ভরসা জুগিয়েছে। শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যের পর তসলিমা যে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, তাতেই পরিষ্কার—এবার আর কেবল আর্তি নয়, বরং খুব শীঘ্রই হয়তো তিলোত্তমার বুকে ফিরে আসবেন নির্বাসিত এই লেখিকা। তাঁর এই ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে এখন রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক মহলে।

তসলিমা নাসরিনের ফিরে আসা কেবল এক ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন নয়, এটি এক দীর্ঘ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের পরিসমাপ্তি। তাঁর এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে শহর কলকাতায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও, এক বিশাল অংশের পাঠক ও অনুরাগী তাঁর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। দীর্ঘ বছর পর প্রিয় শহরে তসলিমা ফিরলে তা কলকাতার বুদ্ধিজীবী মহলে বড় মাপের এক ঘটনা হতে চলেছে। সবমিলিয়ে, তসলিমার এই ফেসবুক পোস্ট এখন এটাই জানান দিচ্ছে যে, অন্ধকার কাটিয়ে আলোর মুখ দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কবে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের প্রাণের শহরে পা রাখেন তসলিমা।