বাইশ গজে মর্মান্তিক পরিণতি! বল করতে গিয়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ২২ বছরের তরুণ ক্রিকেটার

ক্রিকেট মাঠের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হলো গভীর শোকে। ভালেসা প্রিমিয়র লিগ চলাকালীন বাইশ গজে ঘটা এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২২ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটার সুহেল আহমেদ। সোমবার বিকেলে ভাদেরওয়াহর কুলসারি গ্রামের এই তরুণ ক্রিকেটারের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো চেনাব উপত্যকা জুড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকেলে, যখন ভালেসা প্রিমিয়র লিগের একটি ম্যাচ পুরোদমে চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, সুহেল আহমেদ নিজের ওভারের বোলিং করছিলেন। একটি বল করার পরেই তিনি হঠাৎ প্রবল শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে শুরু করেন। তিনি পরিস্থিতি সামলে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। সতীর্থরা তড়িঘড়ি তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতেই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং মঙ্গলবার কুলসারিতে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গিয়েছে।
চেনাব উপত্যকায় খেলার মাঠে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এই প্রথম। সুহেল আহমেদের এই আকস্মিক প্রয়াণে স্থানীয় ক্রীড়ামহলে শোকের বাতাবরণ। ক্রিকেট প্রেমী সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তাঁর সতীর্থরা—কেউই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি মেনে নিতে পারছেন না।
তবে খেলার মাঠে এমন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে মাঠের ভেতর তরুণ খেলোয়াড়দের মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর পঞ্জাবের ফিরোজপুরে একটি স্থানীয় ম্যাচ চলাকালীন হরজিৎ সিং নামে এক ক্রিকেটার ছক্কা হাঁকানোর পরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মাঠেই তাঁকে সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। ঠিক একইভাবে, ২০২৪ সালে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে ইমরান প্যাটেল নামক এক জনপ্রিয় ক্রিকেটারের ম্যাচ চলাকালীন মাঠে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। একের পর এক ঘটনায় খেলার মাঠের নিরাপত্তা এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ক্রিকেট মাঠে একের পর এক এহেন মৃত্যু ক্রীড়া দুনিয়ার জন্য একটি বিশাল সতর্কবার্তা।