পাপারাজ্জিদের কুরুচিকর মন্তব্যে সীমা লঙ্ঘন! প্রকাশ্যে তীব্র ধমক দিয়ে কড়া জবাব দিলেন জারিন খান

বর্তমান সময়ে পাপারাজ্জিদের বাড়াবাড়ি এবং তার ব্যক্তিগত পরিসরে অযাচিত হস্তক্ষেপ তারকাদের জন্য এক চরম বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোনাক্ষী সিনহা থেকে শুরু করে নেহা ধুপিয়া—এর আগেও একাধিক অভিনেত্রী ফটোগ্রাফারদের অসংলগ্ন আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সেই তালিকায় এবার নতুন সংযোজন অভিনেত্রী জারিন খান। মুম্বইয়ের এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত পাপারাজ্জিদের এমন এক অশালীন আবদারে মেজাজ হারালেন অভিনেত্রী, যা নিয়ে নেটপাড়ায় এখন জোর চর্চা চলছে।
ঘটনাটি গত সোমবারের। মুম্বইয়ে একটি পোশাক ব্র্যান্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন জারিন খান। সেখানে ব্র্যান্ডের বিভিন্ন কালেকশন নিয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ দিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় একজন ফটোগ্রাফার মশকরা করতে গিয়ে সবিনয়ে অভিনেত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে বসেন যে, তিনি যেন সবার সামনেই সেই পোশাকটি পরে দেখেন। ফটোগ্রাফারের এই ধৃষ্টতা ও কুরুচিকর মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
পাপারাজ্জিদের এই অশালীন আবদারে মুহূর্তের মধ্যে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে জারিনের। তিনি দ্বিধাহীন কণ্ঠে সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যক্তিকে সপাটে জবাব দেন, “আপনাদের সবার সামনে? সেটা একদমই হচ্ছে না।” এরপর তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় পাপারাজ্জিদের সতর্ক করে বলেন, “আমার সঙ্গে এসব আজেবাজে কথা বলবেন না, কারণ আমি এ ধরনের অভদ্রতা মোটেও সহ্য করি না। সবার উচিত নিজেদের সীমার মধ্যে থাকা।” অভিনেত্রীর এই তাৎক্ষণিক ও তেজস্বী প্রতিবাদের পর উপস্থিত দর্শকরাও হতবাক হয়ে যান।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের একাংশ জারিন খানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। অধিকাংশ মানুষই মনে করছেন, জনপ্রিয়তার দোহাই দিয়ে যে কোনো তারকাকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করার অধিকার কারোরই নেই। নেটিজেনরা বলছেন, “জারিন একদম ঠিক করেছেন, পাপারাজ্জিদেরও একটা সীমা থাকা প্রয়োজন।” অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, একজন নারীকে সবার সামনে পোশাক বদলানোর কথা বলার মতো সাহস ফটোগ্রাফাররা পেলেন কোথায়? এটি কেবল অসভ্যতা নয়, বরং চরম অসম্মানজনক।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে সলমন খানের বিপরীতে ‘বীর’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটেছিল জারিন খানের। এরপর ‘রেডি’, ‘হাউসফুল ২’, ‘হেট স্টোরি ৩’, ‘১৯২১’ এবং পঞ্জাবি ছবি ‘জাট জেমস বন্ড’-এর মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি বড় পর্দা থেকে কিছুটা দূরে রয়েছেন। ২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হাম ভি আকেলে তুম ভি আকেলে’ ছিল তাঁর শেষ কাজ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বরাবরই নিজের ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে সচেতন। আজকের এই ঘটনাটি বুঝিয়ে দিল, তারকা হলেও নিজের আত্মসম্মান রক্ষায় তিনি আপসহীন।