আকাশপথের একচ্ছত্র অধিপতি ভারত! ১১৪টি রাফালের নতুন অর্ডার আসতেই ঘুম উড়ল পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের

ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার আসন্ন চুক্তিটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারতের বিমানবাহিনীর এই বিশাল অধিগ্রহণ পরিকল্পনা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে ভারতের হাতে ৩৬টি রাফাল রয়েছে, তবে নতুন ১১৪টি বিমান অন্তর্ভুক্ত হলে ভারতের রাফাল বহরের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫০টিতে। এই বিশাল বহর ভারতীয় বিমানবাহিনীকে একাধারে একাধিক রণাঙ্গনে নিরবচ্ছিন্ন আধিপত্য বজায় রাখার অসামান্য ক্ষমতা প্রদান করবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, রাফালের মতো ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এটি অত্যাধুনিক সেন্সর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধের (Electronic Warfare) সক্ষমতা এবং দূরপাল্লার মারণাস্ত্রের এক অনন্য সংমিশ্রণ। এই বিমানের ‘স্পেকট্রা’ (SPECTRA) স্যুট শত্রুর জ্যামিংকে অকেজো করে বিমানটিকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া, এতে যুক্ত ‘মিটিওর’ (Meteor) বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এয়ার-টু-এয়ার অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত। আগে ৩৬টি রাফাল থাকায় বিভিন্ন রণাঙ্গনে তাদের উপস্থিতি কিছুটা সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু ১৫০টি বিমানের শক্তিশালী বহর ভারতের আকাশসীমার নিরাপত্তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, ভারতকে মোকাবিলা করতে পাকিস্তান তাদের বিমানবহরে এফ-১৬, চিনা জে-১০সিই (J-10CE) এবং জেএফ-১৭ ব্লক ৩ যুক্ত করেছে। তবে পাকিস্তানি বিশেষজ্ঞদের একাংশই স্বীকার করছেন যে, ভারতের রাফাল বহর আধুনিক যুদ্ধের সেন্সর ফিউশন ও নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক অপারেশনের লড়াইয়ে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে। শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এই রাফাল তৈরির পরিকল্পনা তাদের অভ্যন্তরীণ এয়ারস্পেস ইকোসিস্টেমকেও শক্তিশালী করবে। সব মিলিয়ে, ভারতের এই রণকৌশল কেবল পাকিস্তান নয়, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যকেও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে চলেছে।