১০০ Mbps স্পিডেও বাফারিং? রাউটারের এই একটি সেটিং বদলালেই নেট চলবে রকেটের গতিতে!

ইন্টারনেট ব্রাউজিং বা নেটফ্লিক্সে সিনেমা দেখার সময় অকারণে বাফারিং হওয়া বর্তমান যুগে এক চরম বিরক্তির কারণ। অনেক সময় দেখা যায়, মোটা টাকা খরচ করে উচ্চ গতির ১০০ Mbps বা ২০০ Mbps-এর প্ল্যান নেওয়ার পরেও কাঙ্ক্ষিত গতি পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবহারকারীরা প্রায়শই মনে করেন যে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP) বা ইন্টারনেট সংস্থা তাদের ঠকাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে সমস্যাটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই থাকে আপনার ঘরের ওয়াই-ফাই রাউটারের একটি সাধারণ সেটিংসে।

সমস্যাটি অনেকটা রাস্তার ট্রাফিক জ্যামের মতো। সাধারণত রাউটার ইনস্টল করার সময় আমরা এর সেটিংস পরিবর্তনের দিকে নজর দিই না। ফলে অধিকাংশ রাউটার ডিফল্টভাবে ‘অটো চ্যানেল’ (Auto Channel) মোডে থাকে। বিশেষ করে ২.৪ GHz ব্যান্ডে চ্যানেলের সংখ্যা মাত্র ১১টি। জনবহুল এলাকা বা কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ফ্ল্যাটে যখন পাশাপাশি অনেকগুলো রাউটার একই চ্যানেল (সাধারণত ১, ৬ বা ১১) ব্যবহার করে, তখন সিগন্যালের মধ্যে সংঘর্ষ বা ইন্টারফেয়ারেন্স তৈরি হয়। এর ফলে ইন্টারনেটের গতি অর্ধেক হয়ে যায় এবং ভিডিও বাফারিং শুরু হয়।

এই সমস্যার সমাধান অত্যন্ত সহজ। এর জন্য আপনাকে আপনার রাউটারের ‘ওয়াই-ফাই চ্যানেল’ অটো থেকে ম্যানুয়াল মোডে পরিবর্তন করতে হবে। প্রথমে আপনার ফোন বা ল্যাপটপের ব্রাউজারে গিয়ে রাউটারের আইপি অ্যাড্রেস (সাধারণত 192.168.1.1 বা 192.168.0.1) লিখে এন্টার করুন। রাউটারের পিছনে থাকা ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। এরপর ‘ওয়্যারলেস সেটিংস’ (Wireless Settings) বা ‘ওয়াই-ফাই সেটিংস’ অপশনে গিয়ে ‘চ্যানেল’ (Channel) সেকশনটি খুঁজে বের করুন।

২.৪ GHz ব্যান্ডের জন্য ১, ৬ এবং ১১—এই চ্যানেলগুলো সবচেয়ে ভালো কাজ করে কারণ এগুলো একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটায় না। আপনার এলাকায় কোন চ্যানেলে ভিড় কম তা বোঝার জন্য প্লে স্টোর থেকে ‘ওয়াই-ফাই অ্যানালাইজার’ (WiFi Analyzer) অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারেন। এছাড়া আপনার রাউটার যদি ৫ GHz সাপোর্ট করে, তবে সরাসরি তাতে কানেক্ট করুন। এতে ইন্টারফেয়ারেন্স প্রায় থাকেই না এবং গেমিং, ভিডিও কল বা ফোর-কে স্ট্রিমিং অত্যন্ত স্মুথ হয়। সেটিংস পরিবর্তন করার পর অবশ্যই ‘সেভ’ করে রাউটারটি একবার রিস্টার্ট করুন।

পাশাপাশি রাউটার রাখার জায়গাটিও গুরুত্বপূর্ণ। রাউটার সবসময় ঘরের মাঝখানে এবং উঁচু জায়গায় রাখুন। আলমারির ভেতর, টিভির পেছনে বা আয়না ও মাইক্রোওয়েভ ওভেনের কাছে রাউটার রাখা উচিত নয়, কারণ এগুলো সিগন্যাল আটকে দেয়। এছাড়া প্রতি ১৫ দিনে অন্তত একবার রাউটারের প্লাগ খুলে ১০ সেকেন্ড পর পুনরায় লাগিয়ে ‘পাওয়ার সাইকেল’ করুন। এতে রাউটার গরম হয়ে স্লো হয়ে যায় না। নতুন প্ল্যান কেনার আগে এই ফ্রি ট্রিকটি একবার প্রয়োগ করে দেখুন, বাফারিং থেকে মুক্তি পাওয়া নিশ্চিত।