বাস্তবেও কি মারা যাবেন ‘ফুংসুক ওয়াংড়ু’? সোনম ওয়াংচুকের চরম শারীরিক অবনতিতে কাঁপছে বলিউড!

পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের জীবন এখন চরম সংকটের মুখে। লাদাখের জনস্বার্থ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে তাঁর অনির্দিষ্টকালের অনশন ১৭ দিনে পা দিয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। এই ১৭ দিনে তাঁর ওজন প্রায় ৮ কেজি হ্রাস পেয়েছে, যা কেবল তাঁর পরিবার নয়, সমগ্র দেশের সচেতন নাগরিকদের জন্য এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

NEET পেপার ফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং এই ঘটনায় প্রাণ হারানো ১১ জন ছাত্রছাত্রীর পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে সোনম ওয়াংচুক এই অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লড়াই চালিয়ে গেলেও, বলিউড তারকাদের একাংশের নীরবতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। শেষমেশ পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় বলিউডের তারকারা মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

সবার আগে এগিয়ে এসেছেন ‘থ্রি ইডিয়েটস’ খ্যাত অভিনেতা ওমি বৈদ্য। উল্লেখ্য, এই ছবিতেই আমির খানের অভিনীত ‘ফুংসুক ওয়াংড়ু’ চরিত্রটি সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকেই অনুপ্রাণিত। ওমি তাঁর ইনস্টাগ্রামে একটি মর্মস্পর্শী ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, “আপনারা কি জানেন যে, বাস্তবের ফুংসুক ওয়াংড়ু হয়তো মারা যেতে পারেন? আমি চাই না তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।” অভিনেতা অভয় দেওলও সোনম ওয়াংচুকের একটি ছবি শেয়ার করে সেখানে একটি ভাঙা হৃদয়ের ইমোজি যুক্ত করেছেন, যা তাঁর নীরব সমর্থন ও যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ।

তবে সবথেকে জোরালো বার্তা দিয়েছেন প্রবীণ অভিনেত্রী জিনাত আমন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্টে ওয়াংচুককে SECMOL-এর প্রতিষ্ঠাতা, ‘আইস স্তূপ’ বা কৃত্রিম হিমবাহের উদ্ভাবক এবং লাদাখের শিক্ষা সংস্কারের এক উজ্জ্বল অগ্রদূত হিসেবে অভিহিত করেছেন। জিনাত লিখেছেন, “আজ আমার মন রাজধানীর দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আমি খবরে পড়লাম যে মিস্টার ওয়াংচুকের পেশি ক্ষয় হতে শুরু করেছে এবং তিনি তীব্র যন্ত্রণায় কাতর। তাঁকে অনশন ভাঙতে অনুরোধ করা হলে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, ‘আমাকে অনশন ভাঙতে বলবেন না, সরকারকে জিজ্ঞাসা করুন কেন তারা আলোচনাতেও বসতে রাজি নয়!’”

জিনাত আমন ভারত সরকারকে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ হতে পারি না, যা কি না দেশের অন্যতম সেরা মেধাকে এভাবে বলি হতে দেখবে। ভারতে অহিংস প্রতিবাদের এক দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। যাঁরা ক্ষমতায় রয়েছেন, তাঁদের উচিত এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা।”

সোনম ওয়াংচুকের এই লড়াই এখন শুধু একটি বিশেষ দাবি আদায়ের পথ নয়, বরং এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও দায়বদ্ধতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলিউডের প্রবীণ ও নবীন তারকাদের এই সরব উপস্থিতি কি সরকারের কানে পৌঁছাবে? নাকি আরও একটি মেধাবী প্রাণ নিভে যাবে অবেলায়? এই প্রশ্নই এখন দেশজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে।